পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৮:৪৮ মিনিটে পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত আল-খায়ের এডুকেশন সেন্টারে ক্লাস চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের বাইরে অভিভাবক ও স্বজনদের ভিড় জমে যায়। সন্তানদের খোঁজে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উদ্ধার বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আরিফ খাত্তাক জানান, প্রথমে ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনের ওপরের তলার ছাদ ছাদের ওপর ধসে পড়ে। ওপরের ছাদের ভারী ওজনের চাপে নিচের তলার শ্রেণিকক্ষের ছাদটিও ভেঙে যায় এবং শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পেশোয়ারের উপকমিশনার জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে চার শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। পরে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়, হাসপাতালটিতে ৩৩টি মরদেহ নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আরও দুটি মরদেহ নেওয়া হয় নাসিরুল্লাহ খান বাবর মেমোরিয়াল হাসপাতালে। নিহত শিশুদের অধিকাংশের বয়স ১৩ বছরের নিচে এবং তাদের মধ্যে ১২ জন মেয়ে শিশু।
এদিকে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ভবনটির কাঠামো দুর্বল ছিল এবং ছাদের ওপর অতিরিক্ত নির্মাণভার থাকায় সেটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্কুলের মালিক খান মুহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার খান মুহাম্মদ দাবি করেছেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে স্কুল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্কুলটিতে মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল।
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহত শিশুদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নির্মাণকাঠামো, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এরআগে গত জুলাই মাসে লাহোরে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: জিও নিউজ
এমএইচআর




