ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে একটি ‘স্বৈরাচারী’ সরকার হিসেবে অভিহিত করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিল্লি প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা।
দীপকে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি একজন স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তার জরুরি অবস্থা জারি করার মতো সাহস নেই।’
গত কয়েক দিনে সিজেপি কর্মী, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের সদস্যদের ওপর পুলিশের নেয়া কড়া পদক্ষেপ ও আটকের ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মোদি সরকারের উদ্দেশ্যে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আপনারা যদি এ ধরনের মানুষদের আটক করতেই চান তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। আর কতকাল আপনারা মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখবেন?’
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।]
দীপকের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাঙ্কা ও দাসসহ সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকরা যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর জন্য একটি গেট বেয়ে উপরে উঠছেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করার আগে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং স্লোগান দেন তারা।
এর উদাহরণ টেনে সংবাদ সম্মেলনে দীপকে বলেন, ‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল? ব্রিটিশ আমলে এমনটি ঘটতো, আর এখন মোদি ও শাহের পুলিশও একই কাজ করছে। আজ এমন একটা সময় এসেছে যে আমাদের নিজেদের দেশেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির কাছে ঠিক কী কারণে জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় পতাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন?’
দীপকে বলেন, ‘তারা নিজেদের প্রদেশে জাতীয় পতাকা ওড়াননি। তাই আশুতোষ ও সৌরভ যখন জাতীয় পতাকা ওড়াল, তখন আপনাদের তো সমস্যা হওয়ারই কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ গান্ধীর আদর্শ এবং বাবা সাহেবের সংবিধান অনুযায়ী চলবে।’
যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে তুলে দেওয়া এবং সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে।
যারা দিল্লিতে যেতে পারবেন না, তাদের নিজ নিজ শহরে একই সময়ে তেরঙ্গা মিছিল আয়োজনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি ও দেশটির বিরোধী দলগুলো।
এরআগে গত ১০ অক্টোবর সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, পরিবহন ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমএইচআর




