বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

শেয়ার করুন:

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের
ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান রোনেন বার ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার বিষয়ে তাকে দায়ী করে নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্যকে মানহানিকর দাবি করে এ মামলা করেছেন তিনি।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বুধবার (১৪ অক্টোবর) মামলাটি করা হয়। নির্বাচনের আগে এ মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোনেন বার আদালতে ১৩৪ পৃষ্ঠার একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, নিজের দায় আড়াল করতে নেতানিয়াহু মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় তার ওপর চাপানোর চেষ্টা মানহানিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বারের দাবি, সম্ভাব্য হামলার লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবকে ফোন করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করার সুযোগ তার ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য, ৭ অক্টোবরের হামলার দিন সকালে রোনেন বার তাকে সতর্ক করেননি। তার দাবি, ওই দিন শিন বেতের প্রধান বা সামরিক কর্মকর্তারা তাকে ফোন করে ঘুম থেকে জাগালে তিনি হামলা ঠেকাতে পারতেন।

মামলার আবেদনে বার অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যেগুলো মিথ্যা বলে তিনি নিজেই জানতেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য নিজের দায় থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া।

আবেদনে আরও বলা হয়, গাজা নিয়ে নেতানিয়াহুর কয়েক বছরের নীতিই সেখানে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হুমকি বাড়িয়ে তুলেছে।

নেতানিয়াহুর পাল্টা প্রশ্ন

গতকাল বুধবার নিজের দল লিকুদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রোনেন বারের অভিযোগের জবাব দেন নেতানিয়াহু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘রোনেন, আপনি কি সত্যি বলছেন?’

নেতানিয়াহুর দাবি, বারের কাছে তার সরাসরি যোগাযোগের নম্বর ছিল এবং অন্য নিরাপত্তাপ্রধানদের মতো তিনিও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করতে পারতেন। সময়মতো ফোন করা হলে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার দায় নিয়ে নেতানিয়াহু ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুনে শিন বেতের প্রধানের পদ ছাড়েন রোনেন বার। তবে পদত্যাগের পরও তিনি দাবি করেন, হামলার আগেই নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে জানানো হয়েছিল।

মামলায় নেতানিয়াহুর কাছে ৩০ লাখ শেকেল ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন বার। প্রতিবেদনে এর পরিমাণ প্রায় নয় লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার দিনের নথি পরিবর্তনের অভিযোগ

রোনেন বারের মামলার পাশাপাশি ৭ অক্টোবরের হামলা-সংক্রান্ত নথি পরিবর্তনের অভিযোগও সামনে এসেছে। নেতানিয়াহুর সাবেক সামরিক সচিব আভি গিল ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওই হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথিতে কারসাজি করেছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনকলের সময় পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে।

গিল ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক স্টেনোগ্রাফার তার কাছে এসে নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফের নির্দেশের কথা জানান। ওই নির্দেশে চার মিনিটের একটি ফোনকলের সময় স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে পরিবর্তন করে সকাল ৬টা ২৯ মিনিট করতে বলা হয়েছিল।

গিল বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল, ফোনকলের সময় পরিবর্তনের অনুমতি তার নেই। তার ভাষ্য, এটাই প্রকৃত ঘটনা এবং এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

এদিকে, গত মাসে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে জানায়, মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান আব্বাস কামেল হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার কয়েক দিন আগে কামেল বিরল এক পদক্ষেপে নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন বলে জানা যায়। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেও হামাসের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্ক করতে তিনি দেশটিতে গিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু

হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সরকারি ব্যক্তিত্ব ও বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। বিভিন্ন জনমত জরিপেও নির্বাচনে তাঁর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় অন্তত ১ হাজার ২২১ জন ইসরায়েলি নিহত হন। সেদিন ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিম্মিদের মধ্যে ওই দিন নিহত ৪৪ জনের মরদেহও ছিল।

অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর