রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দু’দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রথম ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ক্রেমলিনের অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘সবকিছুই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটবে। আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ এবং প্রতি ঘণ্টার ভিত্তিতে যোগাযোগ রাখছি এবং সবকিছু খুব দ্রুত এগোচ্ছে।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের এই উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রধানত মার্কিন জনগণ ও মার্কিন কৃষকদেরই ক্ষতি করে।
এরআগে গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে চলতি মাসে ৩ লাখ টন এবং নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনার রয়েছে রাশিয়ার।
এছাড়াও রুশ শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও অতিরিক্ত ১০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষক, পরিবহন খাত এবং পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রেক্ষাপটে রুশ ডিজেল আমদানির সুযোগ তৈরি করতে নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থ বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দফতর (ওএফএসি) ৯ অক্টোবর একটি লাইসেন্স জারি করে, যার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী রুশ ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানির সুযোগ ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়ালে মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী হতে পারে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বুধবার বলেছেন, ডিজেল চুক্তিটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা পুতিনকে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




