পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিষদ। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রদেশটির সরকারকে স্থগিত করে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ আরও এক ধাপ এগোল।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় পরিষদে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণার অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, গত এক বছরে প্রদেশটিতে ৩ হাজার ৭৮৭টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের যথেষ্ট আন্তরিকতা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেহবাজ শরিফের সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ইমরান খানের দল পিটিআই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতীয় পরিষদে প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় দলটির নেতারা ‘গভর্নর শাসন মানি না, মানব না’ বলে স্লোগানও দিয়েছেন।
পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রদেশটির ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
এরআগে গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের সুপারিশে সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের আওতায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারির পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বা নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়।
অন্যদিকে, ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় কোনো প্রদেশের সরকার সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে ব্যর্থ হলে গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সম্প্রতি কারাবন্দি দলীয় প্রধান ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই ইসলামাবাদ অভিমুখে একটি বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। এমন পরিস্থিতিতে প্রদেশটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ দেশ রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়িয়েছে।
সূত্র: ডন
এমএইচআর




