হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন বিস্ফোরণে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার ছিল বলে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জাহাজটি ডুবে যাওয়ার তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি তাদের বর্ণিত একটি অননুমোদিত ও বিপজ্জনক নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করেছিল। নৌমাইনে আঘাত করার পর এতে আগুন ধরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সাগরে ডুবে যায়।
তবে জাহাজটিতে থাকা কোনো নাবিক হতাহত হয়েছেন কি না বা জাহাজটি ঠিক কোথায় মাইনে আঘাত করেছিল এবং বিস্ফোরণের পরিস্থিতি কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে চলাচলকারী স্থানীয় জাহাজ এবং জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ ২ হাজার ৮২৪ কন্টেইনার ধারণক্ষমতার একটি ছোট জাহাজ।
تصاویری دیگر از کشتی کانتینربر متخلف در تنگه هرمز که هدف مین دریایی شد https://t.co/osOXaocj9z
— خبرگزاری ایسنا (@isna_farsi) October 14, 2026
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ঘটনার একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে জাহাজের বহু কনটেইনার সাগরে ভাসতে দেখা গেছে।
জাতিসংঘের নৌপরিবহণ সংস্থা, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জিএফএস প্রাইডের ডুবে যাওয়া এটি দ্বিতীয় জাহাজ।
এদিকে পৃথক একটি ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী কেপ ডাও নামে আরও একটি জাহাজ প্রণালীটির কাছে ডুবে যেতে বসেছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড এক নোটে জানিয়েছে, ‘অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার কেপ ডাও, যেটি মূলত ২৩ সেপ্টেম্বর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল, একটি ব্যর্থ উদ্ধার প্রচেষ্টার পর ডুবে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।’
প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে নৌমাইন বিস্ফোরণে আড়াই হাজারের বেশি কনটেইনার বহনকারী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পণ্য পরিবহন, সামুদ্রিক বীমা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, ডন
এমএইচআর




