মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কলকাতায় তৃণমূলের মিছিল আটকে দিল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

কলকাতায় তৃণমূলের মিছিল আটকে দিল পুলিশ

দুর্গাপুজার সময়ে রাজ্যে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না, দরকারে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হবে— পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরেই কার্যত তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতায়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপধ্যায়ের দল তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল শুরু হতেই তা আটকে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক হওয়ার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ‘বিপুল প্রতিবাদ মিছিল’-এর ডাক দিয়েছিল মমতা তৃণমূল। 

কিন্তু পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ২টায় মিছিল শুরু হতেই রাজাবাজার এলাকায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়।

তবে রুট আটকে দেওয়ার পরেও দমে না গিয়ে সেখানেই সভা শুরু করেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা।

মিছিলের নেতৃত্বে থাকা কুণাল আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘যেভাবে কাল রাত থেকে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হুমকি দিয়েছে এবং পুলিশ নামিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে আমরা প্ররোচনায় পা দিইনি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ সফল। দিল্লি ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার।’

তিনি বলেন, “আমরা ‘জ্ঞানেশ কুমার ভোট চোর, ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ স্লোগান দিয়েছি, তাতে আপনাদের গায়ে লাগছে কেন? পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখিয়ে যারা এক পাও এগোতে না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তারা আসলে কাপুরুষের রাজনীতি করছে।”

দোলা সেন বলেন, “গত পাঁচ মাসে বর্তমান শাসক দল আমাদের একটাও মিটিং-মিছিলের অনুমতি দেয়নি, প্রতিবারই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। গতকালই প্রশাসনিক প্রধানরা ঘোষণা করেছিলেন এক পাও এগোতে দেওয়া হবে না। দেখে মনে হচ্ছে ‘হল্লা’ চলেছে যুদ্ধে! সামান্য ছাত্র-যুবদের একটি মিছিল আটকাতে জলকামান ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে। ওদের মূল মতলবই হল পুজোর মুখে ছাত্র-যুবদের জেলে পুরে রাখা বা পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো।”

এদিকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মিছিল সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এই কারণেই সরকারিভাবে আমি জানি না কার মিছিল রয়েছে বা সেই মিছিলে কত লোক হবে। সেই মিছিল কোথায় শুরু হবে বা কোথায় শেষ হবে, সেটাও জানি না।।   

অন্যদিকে বিহারের পাটনা শহরে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং রেভোলিউশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার রাজভবন অভিমুখে মিছিল করে। বিক্ষোভকারীরা গান্ধী ময়দানের ১০ নম্বর গেট থেকে তাদের মিছিল শুরু করেন। মিছিল চলাকালে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

সূত্র: দ্য ওয়াল

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর