স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যা হয়েছে। দেশটির গোরখা অঞ্চলে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ পানির প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে গেছে। তলিয়ে গেছে একাধিক সেতু।
এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় গোরখা, ধাদিং ও চিতোয়ান জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার রাতে ভূমিধসের কারণে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে একটি অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়। রোববার ভোরে সেখান থেকে প্রবল বেগে পানি নেমে আসে। পাথর ও কাদামিশ্রিত পানির স্রোতে নদীতীরবর্তী বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণ বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে এই পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে।
গোরখার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র জানান, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে বড় ধরনের এই ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রায় দেড় মাস আগে গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোতেকোশী নদীতে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। ওই দুর্যোগে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। নিখোঁজ হন বহু মানুষ। সেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় নেপালে উদ্বেগ বেড়েছে।
এমআর




