ভারতের মণিপুরে নতুন করে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাজ্যের কামজং ও উখরুল জেলায় এসব ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
কামজং জেলার চাসাদ ও আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের এক যুবক ও এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাইকেল নগামমিনলেন হাওকিপ ও ডমখোনেই তৌথাং। এ ছাড়া ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নিংচৌ গ্রামে গুলিতে দুই নাগা গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পাহাড়ি জেলা উখরুলের টিএম কাসোমের ইয়াওলেন এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে সন্দীপ রাই নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।
সংঘর্ষের পাশাপাশি কামজং জেলার চাসাদ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০টি দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলা প্রশাসন চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা নির্দেশনায় নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত এবং অস্ত্র বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছে কুকি সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (কোটিইউ)। তবে জরুরি চিকিৎসাসেবাকে এই আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কুকি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।
এ ঘটনায় মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। এসব ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এমআর




