শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দিল্লির তরুণদের আন্দোলনে প্রেরণা বাংলাদেশ ও নেপাল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

দিল্লির তরুণদের আন্দোলনে প্রেরণা বাংলাদেশ ও নেপাল!
দিনভর আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন এবার ভারতের রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দুই দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতনের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে ভারতের তরুণ ও বিক্ষোভকারীদের একাংশও রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে উঠে আসছে বাংলাদেশ ও নেপালের অভিজ্ঞতা।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাত হাজারের বেশি আন্দোলনকারী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে আটকের দাবি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আয়োজকেরা এই বিক্ষোভের ডাক দেন। পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ায় সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

আরও পড়ুন

আটকের পরেই দাদির মৃত্যুসংবাদ পেলেন অভিজিৎ দীপকে

কনট প্লেস ও টলস্টয় রোডসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যারিকেড ভাঙা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বাধা ও ব্যাপক আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের কেউ কেউ।

India3

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে নয়া দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করা ২৯ বছর বয়সী সন্তোষ কুমারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি পুলিশের ধরপাকড়ের সমালোচনা করে বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতীয়দেরও অধিকার আদায়ে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটক করলেও নতুন বিক্ষোভকারী যুক্ত হওয়ায় প্রতিবাদ থামানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন

তীব্র হচ্ছে দিল্লির আন্দোলন, মমতা-কেজরিওয়ালসহ আটক অনেক নেতা

এদিকে ভারতের বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশন ও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিদায় এবং বর্তমান সরকারের পতনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত বলে দাবি করেছে।

India2

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের উল্লেখযোগ্য দুটি উদাহরণ বাংলাদেশ ও নেপাল। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তন ঘটে।

আরও পড়ুন

দিল্লিজুড়ে ট্রেন-মেট্রো বন্ধ না রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে দুর্নীতি ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শুরু হওয়া আন্দোলন ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। দুই দেশের ঘটনাই দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং জনঅসন্তোষের শক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করে।

জেবি

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর