যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী হারিকেন ইসাইয়াস। ঝড়টির প্রভাবে প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় চার লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার ডেস্টিন এলাকার কাছে উপকূলে আঘাত হানে ইসাইয়াস। সে সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল বা ১৬৯ কিলোমিটার। এটি ছিল দ্বিতীয় ক্যাটাগরির হারিকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র (এনএইচসি) জানিয়েছে, ঝড়টির প্রভাবে মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে ফ্লোরিডার সুয়ানি নদী পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ পেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হারিকেনের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফ্লোরিডা ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের গতিপথে থাকা এলাকায় অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে। জলোচ্ছ্বাস, প্রবল বাতাস ও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনএইচসি জানিয়েছে, ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চল, দক্ষিণ আলাবামা ও দক্ষিণ মিসিসিপির কিছু এলাকায় হারিকেনের গতিবেগের বাতাস বয়ে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা এবং শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতারও আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামায় চার লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঝড়টি স্থলভাগের আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর বাতাস ও ভারী বৃষ্টির প্রভাব অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদীর পানি বৃদ্ধি, আকস্মিক বন্যা ও শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
হারিকেনের সঙ্গে টর্নেডো সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা দেখা দিলে উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝড়ের সময় ক্ষয়ক্ষতির ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমে ইসাইয়াসই প্রথম হারিকেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সামুদ্রিক ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) জানিয়েছে, ঝড়টি তৈরি হওয়ায় এ মৌসুমে প্রথম হারিকেন গঠনের ক্ষেত্রে অন্তত ১৯০৫ সালের পরের সময়ের একটি রেকর্ড ছুঁয়েছে।
সাধারণত আটলান্টিক হারিকেন মৌসুম চলে ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে এ বছর শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড়ের তৎপরতা তুলনামূলক কম ছিল। এল নিনো বায়ুমণ্ডলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সৃষ্টি ও শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
তবে মৌসুমে দেরিতে তৈরি হলেও ইসাইয়াসের মতো একটি ঝড়ও উপকূলীয় জনপদে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। তাই ঝড়ের গতিপথে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: বিবিসি।
এমআর




