ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রাখা হচ্ছে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদেশে থেকে দিল্লিগামী প্রায় ৬১টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন বলা হয়, আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে দলটি। তবে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ দিনের আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি। কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা পড়ে ৭ অক্টোবর, অর্থাৎ ঘোষিত বিক্ষোভের মাত্র তিন দিন আগে। নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মসূচির জন্য অন্তত ১০ দিন আগে জানানো প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি আগের একটি বিক্ষোভে নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে পুলিশ। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইতোমধ্যেই জন্তর মন্তরসহ দিল্লির মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (১৪৪) জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাকে পুলিশকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিক্ষোভকারীদের মুখ শনাক্তকরণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ
বিক্ষোভের প্রভাব পড়ছে দিল্লির গণপরিবহনেও। পুলিশের অনুরোধে ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকতে পারে।
প্রভাবিত স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লি, প্যাটেল চক, জনপথ, মান্ডি হাউস, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট, কাশ্মীরি গেট, হাউজ খাস ও লাজপত নগর। এসব স্টেশন দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
৬১টি ট্রেন বাতিল
মেট্রোর পাশাপাশি রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। শুক্র ও শনিবার নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন মোট ৬১টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ৪০টি ট্রেন এবং শনিবারের ২০টি ট্রেন বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলো যাত্রার সূচনাস্থল থেকেই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদেরও দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে যাত্রীদের স্টেশনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের চলাচল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি, দ্য হিন্দু
এমএইচআর




