শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গের দুই আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

পশ্চিমবঙ্গের দুই আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়

পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা আসন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—এর উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নন্দীগ্রামে হাসি রানী রথ এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে শাখারভ সরকার জয়ী হয়েছেন।

কলকাতা-ভিক্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল। শুক্রবার ভোট গণনার শুরু থেকে দুই আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান দেখা যায়। 

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আসন ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ ধরে রাখায় এখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

এ নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করে হাসিরানি রথকে বিজেপি। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর নওদা আসনটি ধরে রাখায়। এই আসনে তার ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর শংকরাভ সরকারকে প্রার্থী করে বিজেপি।  

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের মিলন প্রধান। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস দ্বিতীয়, বামফ্রন্ট তৃতীয় এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস রয়েছে পঞ্চম স্থানে।

অন্যদিকে ১৫ রাউন্ডের শেষে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ। 

দলভিত্তিক অবস্থানে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি দ্বিতীয়, কংগ্রেস তৃতীয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বামফ্রন্ট পঞ্চম ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ষষ্ঠ হয়েছে।

ভোট লুটের অভিযোগ 

দুই আসনের ফলাফল ঘিরে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনী অনিয়ম ও ভোট লুটের অভিযোগ তুলেছে। 

কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আইএসএফ, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি এবং বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথের ভোটের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার দুপুরে সামাজিকমাধ্যমে একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, বুথটিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৭৭২ হলেও বিজেপি পেয়েছে ৯০৯ ভোট।

এই অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৎ

তিনি বলেন, ‘৭৭২ জন ভোটার আর ভোট পড়েছে ৯০৯। তার মানে পুলিশকে দিয়ে ছাপ্পা করালে এরকমই হয়।’

এদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন। রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে এই দুই আসনে বিজেপির জয়কে ঘিরে সংখ্যালঘু ভোটের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল 


এমএইচআর

 

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর