টানা পতনের পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন, বন্ডের সুদহার এবং জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাবে শুক্রবার স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮ট ৪২ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলার পৌঁছায়।
একই সময়ে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তি কমে আসা। ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে বাজারে চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহার কমে আসাও স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। কারণ, স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, ‘চলতি মাসে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং বন্ডের সুদহারকে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নামতে সহায়তা করেছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে’।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় শুক্রবার তেলের দামও কমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা চলার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলালে লেনদেন হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




