হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ১২ টা ০৫ মিনিটে (জিএমটি) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। এটি গত ২ অক্টোবরের পর থেকে সর্বোচ্চ দর।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৮ ডলারে ওঠে। যদিও দিনের শুরুতে উভয় ধরনের তেলের দামই ৫ ডলারের বেশি বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি পরিবহনকারী ট্যাংকারে অন্তত ১২টি হামলা, হামলার চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর কোনো এক সপ্তাহে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়ছে। মেক্সিকো উপসাগরের দিকে এগিয়ে আসা ট্রপিক্যাল স্টর্ম ‘ইসাইয়াস’-এর কারণে দেশটির বড় দুটি তেল কোম্পানি শেল ও শেভরন তাদের কয়েকটি স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ করে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বুধবার পর্যন্ত মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ২৫ দশমিক ০৮ শতাংশ তেল উৎপাদন এবং ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ছিল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এদিকে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাজারে এর প্রভাব সীমিত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




