বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কারসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কারসন
অ্যান কারসন

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কারসন। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা) কার্সনের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

নোবেল কমিটির জানিয়েছে, ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে কৌতুকপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী কারসনের লেখায় কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও আধুনিক সাহিত্যিক পরীক্ষানিরীক্ষার এক স্বতন্ত্র সমন্বয় দেখা যায়। তার সাহিত্যকর্ম প্রচলিত ধারার সীমারেখা অতিক্রম করে নতুন ধরনের ভাষা ও আঙ্গিক নির্মাণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

নোবেল কমিটি কারসনের কাজকে ‘bold and inventive oeuvre’ (সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যসম্ভার) নামে অভিহিত করেছে। 

কমিটির মতে, কারসন মূলত কবি হলেও তার সাহিত্যকর্মকে শুধু কবিতার প্রচলিত কাঠামোয় সীমাবদ্ধ করা যায় না। তার লেখায় প্রবন্ধ, অনুবাদ, নাট্যধর্মী রচনা ও কবিতার বিভিন্ন রূপের পরীক্ষামূলক ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি তার গভীর আগ্রহও তার সৃষ্টিশীলতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখ্য, অ্যান প্যাট্রিসিয়া কারসন ২১ জুন ১৯৫০, কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ব্যাংকার। বাবার চাকরির কারণে শৈশবে কানাডার বিভিন্ন ছোট শহরে তার বেড়ে ওঠা। কৈশোরেই প্রাচীন গ্রিক ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। স্কুলের এক ল্যাটিন শিক্ষক তাকে প্রাচীন গ্রিক শেখাতে শুরু করেন। পরবর্তীতে এই আগ্রহই তার সাহিত্য ও একাডেমিক জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।

কারসন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট মাইকেলস কলেজে ক্লাসিকস বা প্রাচীন গ্রিক-রোমান সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন।

সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার মাধ্যমে কারসনের দীর্ঘ সাহিত্যজীবন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় স্বীকৃতি পেল। তার পুরস্কারপ্রাপ্তির ঘোষণায় আবারও সামনে এলো এমন এক সাহিত্যধারা, যেখানে পুরোনো সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে অনুসরণ করার পাশাপাশি সেটিকে নতুন ভাষা ও আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী নাম ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৬ সালের নোবেল সপ্তাহ শুরু হয়। মানুষের মস্তিষ্কের কোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে— দীর্ঘদিনের এই রহস্য উন্মোচনের জন্য এবার চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ৩ জন বিজ্ঞানী— কার্ল দেইসেরাথ, পিটার হেগেমান এবং জর্জ ন্যাগেল।

পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

এবার দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে অবস্থিত ‘আইসকিউব নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণাগার’ তৈরিতে অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণা আবিষ্কারের জন্য নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ান-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। 

আর গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) ঘোষনা করা হয় এ বছর রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম। এবার রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি বি. কাগান এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। 

এদিকে আগামীকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় এ পুরস্কার ঘোষণা করবে।

সর্বশেষ ১২ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার। 

বেড়েছে পুরস্কারের অর্থমূল্য

২০২৬ সালে প্রতিটি পূর্ণ নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। পুরস্কারের অর্থ একাধিক বিজয়ীর মধ্যে ভাগ হলে নিয়ম অনুযায়ী তা ভাগ করে দেওয়া হয়।

এমএইচআর

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর