মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের- বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহরি আবদুল গনি। এ সময় তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ার পারদানা পুত্র কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন মিন অং হ্লাইং।
প্রতিবেদনের বলা হয়, মিয়ানমারের সাবেক এই জান্তা প্রধানের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর এমন নাগরিকদের স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করবেন, যারা দেশটিতে অনিয়মিতভাবে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি আসিয়ানের বিভিন্ন ব্যবস্থার আওতায় চলমান উদ্যোগগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে সম্প্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশটিতে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি বৃহত্তর একটি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ; মোট প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ধাপে ধাপে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের মধ্যে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
মিয়ানমারের রাখাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ও মানবিক সংকট অব্যাহত থাকায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্ন সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মালয়েশিয়াকে প্রত্যাবাসনের আগে প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়াও মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মিয়ানমারে সংঘাত ও মানবাধিকার পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ছাড়া এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ সামরিক নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে সমর্থন করা মানেই কোনো পক্ষের নীতির অনুমোদন নয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যায়, যাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।
সূত্র: নিউ স্ট্রেইট টাইমস, রয়টার্স
এমএইচআর




