দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাবাহিনী একজন সাবেক অফিসারকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র সৈন্যকে গুলি করে হত্যা ও আরও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেজর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিডাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড এখন কার্যকরের পথে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডের সুপারিশ করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দিয়েছেন। পার্নেল লিখেছেন, ‘হাসানের বিচারের চূড়ান্ত দিন এসে গেছে।’ তবে মৃত্যুদণ্ডের সময় ও স্থান এখনো ঠিক হয়নি। সেনাবাহিনীর সচিব সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
৫৬ বছর বয়সী হাসান যদি এই পদ্ধতিতে মারা যান, তবে তিনি ১৯৪৫ সালের পর প্রথম মার্কিন সেনাসদস্য হবেন যাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ১৯৬১ সালের পর যেকোনো পদ্ধতিতে এটি হবে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন বন্দীর মধ্যে তিনি অন্যতম।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে লেজার-সাইটযুক্ত হ্যান্ডগান নিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন হাসান। এতে ১২ জন কর্মরত সৈন্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত হন। এটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধছাড়া সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাকে ৪৫টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
সামরিক আইন অনুযায়ী, কোনো সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড রাজ্য পর্যায়ে হয়। তবে বর্তমানে ২৭টি রাজ্য, সামরিক বাহিনী ও ফেডারেল সরকারে এই বিধান বহাল রয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াডের ব্যবহার অত্যন্ত বিরল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডের বিধান আবার চালু করেন, যা বাইডেন প্রশাসনের সময়ে স্থগিত ছিল।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন




