ভুটানে ৭৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা দ্রুক গ্রিন পাওয়ার করপোরেশনের (ডিজিপিসি) সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারতের শিল্প গোষ্ঠী আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান- আদানি পাওয়ার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘চামখারচু-১’ নামে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই পক্ষের মধ্যে শেয়ারহোল্ডার্স অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএইচএ) সই হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লিয়নচেন দাশো শেরিং তোবগেসহ দেশটির অর্থ ও জ্বালানি-প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রীরা এবং দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় ভুটানের ঝেমগাং জেলার চামখারচু নদীর ওপর প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। এটি হবে ‘পিকিং রান-অব-দ্য-রিভার’ প্রকল্প, অর্থাৎ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকা সময়ে উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা থাকবে।
চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পটির মালিকানায় আদানি পাওয়ারের অংশ থাকবে ৪৯ শতাংশ, আর ভুটানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডিজিপিসি-এর অংশ থাকবে ৫১ শতাংশ। ‘বিল্ড, ওন, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার’ মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ৩০ বছরের কনসেশন থাকবে প্রকল্পটির।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণ শুরুর পর ছয় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
ভুটানের বিদ্যুৎ চাহিদা বিশেষ করে শীতকালে মেটানোই প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালে ভুটানে উৎপাদিত অতিরিক্ত সবুজ বিদ্যুৎ ভারতের কাছে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। ফলে প্রকল্পটি দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আদানি পাওয়ার ও ডিজিপিসি-এর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই প্রতিষ্ঠান ৫৭০ মেগাওয়াটের ওয়াংচু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে চুক্তি করেছিল। নতুন প্রকল্পটি দুই পক্ষের বৃহত্তর ৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।
আদানি পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সারদানা বলেন, জলবিদ্যুৎ দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চামখারচু-১ প্রকল্প ভুটানের শীতকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রীষ্মে ভারতে অতিরিক্ত সবুজ বিদ্যুৎ রফতানি সুযোগ তৈরি করবে।
ডিজিপিসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাশো ছেওয়াং রিনজিন বলেছেন, প্রকল্পটি বিশেষ করে শীতকালে ভুটানের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ভারতসহ আঞ্চলিক বাজারে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
নতুন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ভুটানের জলবিদ্যুৎ খাতে ভারতের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ল। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




