সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইসরায়েলের উঁচু ভবনে বিমানটি বিধ্বস্তের পরিকল্পনা ছিল 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসরায়েলের উঁচু ভবনে বিমানটি বিধ্বস্তের পরিকল্পনা ছিল 
ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী সেই বিমানটি ধ্বংস করার জন্য একাধিক পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিলেন ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি।

প্রথম পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে দেখে দ্বিতীয়টি কার্যকর করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনওটিই সফল হয়নি। ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, মাঝ-আকাশে বিমানের দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিব শহরে যাওয়ার পথে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। 

সহকারী পাইলট মাঝ-আকাশেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপান বলে অভিযোগ উঠে। বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। কোনোরকমে তা উদ্ধার করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে।

আগেই ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর দাবি, বিমানটিকে তেলআবিব পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে সেখানকার কোনও উঁচু ভবনে ধাক্কা খাইয়ে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের।

এতে বহু সংখ্যক ইহুদি হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার। তা ভেস্তে যাওয়ায় পরে দ্বিতীয় পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ কাজে লাগান তিনি।

প্রাথমিকভাবে হামামের প্রথম লক্ষ্য ছিল ক্যাপ্টেন স্মিতকে হত্যা করা। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্যেই বিমানের ককপিটে রাখা কুঠার দিয়ে পিছন থেকে স্মিতের মাথায় একাধিক বার আঘাত করেছিলেন হামাম। কিন্তু স্মিত প্রতিরোধ করতে থাকেন। 

একবার ককপিটের দরজাও খুলে দিয়েছিলেন। পরে হামাম তা আবার বন্ধ করে দেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বুঝে নেন, হিসেবে কিছু ভুল হয়েছে। ধস্তাধস্তিতে ককপিটের বাইরের লোকজনও ততক্ষণে টের পেয়ে গিয়েছেন ভেতরে কী চলছে।

ফলে তেলআবিব পর্যন্ত বিমান উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তা উঁচু কোনো বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খাওয়ানো সম্ভব নয়। এরপরেই সম্ভবত তিনি বিমানের দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং মরুভূমির মাঝে বিমানটিকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রিপোর্টে দাবি করা হয়, ক্যাপ্টেনকে জখম করার পর বিমানের অটোপাইলট সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিলেন হামাম। ‘কন্ট্রোল স্টিক’ও ঠেলে দিয়েছিলেন। এর ফলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।

১৮০ জন ইসরায়েলি যাত্রীসহ দ্রুতগতিতে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছিল বিমানটি। সেই মুহূর্তে যাত্রী এবং অন্য পাইলটেরা হস্তক্ষেপ করেন এবং বিমানটিকে উদ্ধার করেন।

ককপিটের এই গোলমালের মধ্যে যাত্রীআসন থেকে করা কিছু ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, কেবিনের আপৎকালীন আলো জ্বলছিল।

জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নেমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে এই আলো জ্বালানো হয়। মাঝ-আকাশে তা জ্বলার কথাই নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বোয়িং ৭৩৭-এ আপৎকালীন আলো তখনই জ্বলে ওঠে, যখন বিমানের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ব্যাটারি সক্রিয় হয়।

রিপোর্টে দাবি, হয় বিমানের জেনারেটর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, নয়তো দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। না হলে আপৎকালীন আলো জ্বলার কথা নয়। অভিযুক্ত পাইলটই বিমানের জ্বালানির সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ করে দিয়েছিলেন কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৯৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে নিচের দিকে নামছিল বিমানটি। এতে তার লেজের দিকের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানের যাত্রীআসনে দু’জন পাইলট ছিলেন বলে এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। অভিযুক্ত আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাতের হেফাজতে রয়েছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর