মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনের মোখা বন্দরের অদূরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপকূলেও একের পর এক ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইয়েমেনের মোখা থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে একটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে জাহাজের কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত সপ্তাহে ওমান ও হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি জলসীমায় আরও দুটি তেল ট্যাংকারে আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। শনিবার ওমানের চার নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। রোববার হরমুজ প্রণালীতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় আরেকটি ট্যাংকার, ফলে সেটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান সমর্থিত হুথিরা জানিয়েছে, তারা রিয়াদের আরামকো স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সানাসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে সৌদি বিমান হামলার জবাবে এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই স্থাপনার ওপর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। আরামকোও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। আল-সাইফ কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বদর আল-সাইফ সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সংঘাত পুরোপুরি শুরু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
হামলার ঘটনা জেরে সাম্প্রতিক সপ্তাহে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।




