রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশ করা যাবে না: দিল্লি হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশ করা যাবে না: দিল্লি হাইকোর্ট

বৈধ ভারতীয় ভিসা হাতে থাকলেই যে কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতের প্রবেশের অধিকার নেই—গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে এমনটাই স্পষ্ট করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। 

সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের দায়ের করা মামলার শুনানিতে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই রায় দিয়েছেন বিচারপতি অমিত মহাজন। 

আদালত রায়ে বলেছে, ভিসা ইস্যু করা এবং ভারতে প্রবেশের অনুমতি—দুটি পৃথক বিষয়। জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, পররাষ্ট্রনীতি, জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক বিবেচনায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধ ভিসাধারী বিদেশিকেও প্রবেশের অনুমতি না দিতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, মামলাটি করেছিলেন আন্নাগুরবানোভা ইয়াজবিবি নামে তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিক। তার দাবি ছিল, বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। একই বিমানে থাকা তার স্বামীকে অবশ্য ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ওই নারী দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ এবং তার ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন আটকে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি।

মামলার শুনানিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছে বৈধ ভিসা থাকলেই ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের ‘অবিচ্ছেদ্য’ বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার তৈরি হয় না। ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু ‘প্রতিকূল তথ্য’ পাওয়া গিয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার আগের ভ্রমণ ইতিহাসের কথাও আদালতে তুলে ধরে। 

এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন এবং অধিকাংশ সফরের সময়কাল ছিল প্রায় এক থেকে তিন দিন। তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা—দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।

আদালত সরকারের উপস্থাপিত নথিও পর্যালোচনা করে। সেখানে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়। ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা কোনো আমন্ত্রণপত্র ছিল না এবং নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যও তিনি দিতে পারেননি বলে আদালতের নথিতে উঠে আসে। 

এছাড়া ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন করলেও নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নেয়।

বিচারপতি মহাজন বলেন, বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য কোনো স্বাভাবিক বা আইনগত অধিকার নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার আওতাধীন বিষয়।

আদালত আরও জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্যের ভিত্তিতে সক্ষম কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বিচারিক পর্যালোচনার সময় আদালত সাধারণত সেই কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের জায়গা নিজের সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে না।

সূত্র: দ্য হিন্দু

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর