মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক সংঘাত— গাজা থেকে ইরান পর্যন্ত সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববাজারে ইসরায়েলি অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। আর দখলতদার দেশির অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই চিত্র।
‘দ্য ডিফেন্স ডিভিডেন্ড অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানি ২০২০ সালের ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—অর্থাৎ পাঁচ বছরে বৃদ্ধি প্রায় ১৩০ শতাংশ।
এদিকে ইসরায়েলি অস্ত্রের বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডের অংশীদার মুসলিম দেশগুলো—সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো।
আইআইএসএস-এর হিসাবে, এই তিন দেশে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানির অংশ ২০২০ সালে কার্যত শূন্য থাকলেও ২০২১ সালে তা ৭ শতাংশে ওঠে। ২০২২ সালে তা লাফ দিয়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছায়।
২০২৩ সালে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তা ৩ শতাংশে নেমে গেলেও পরবর্তী দুই বছরে আবার বেড়ে ২০২৪ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ১৫ শতাংশ হয়েছে। মূল ক্রেতা হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আমিরাত।

আইআইএসএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি ইসরায়েলের কাছ থেকে বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, ড্রোন, নজরদারি ও গোয়েন্দা প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান রাফাল-এর স্পাইডার-এমআর মাঝারি পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলবিত সিস্টেমের-এর বিভিন্ন এয়ারবোর্ন ডিফেন্স ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি এবং ইসরায়েল এরোস্পেসের ইন্ডাট্রিজের (আইএআই) বারাক লার্ড ব্যবস্থার মতো সরঞ্জাম রয়েছে।
আইআইএসএস আরও জানিয়েছে, শুধু অস্ত্র কেনাবেচাতেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সীমাবদ্ধ নেই। আমিরাতের এডজ গ্রুপ ইসরায়েলি কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে এবং দুই দেশের কোম্পানিগুলো ড্রোন প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে।
আইআইএসএস বলছে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডের পর মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। মরক্কো ও বাহরাইনও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে, তবে আমিরাতের তুলনায় তাদের অস্ত্র আমদানির পরিমাণ কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের কাছ থেকে বারাক এমএক্স, ওয়ান্ডারবি ইউএভি, ওফেক-১৩ স্যাটেলাইট এবং অ্যাটমোস-২০০০ আর্টিলারি ব্যবস্থার মতো সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে মরক্কো। বাহরাইনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কেনার পাশাপাশি উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থার চুক্তিও হয়েছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
এমএইচআর




