সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে আকাশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতা স্মরণ করে কো-পাইলটের হামলার শিকার ভারতীয় পাইলট বলেছেন, ‘ওই সময় একটি চিন্তাই মাথায় ছিল—আমি ওই সব যাত্রীকে মরতে দিতে পারি না।’
শুক্রবার (২ অক্টোবর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে এ কথা বলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।
তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বুঝতে পেরেছিলেন। ককপিটের দরজা খুলে সাহায্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই ছিল তার শেষ চেষ্টা।
মাচ্ছার বলেন, ‘আমি এত বেশি আঘাত পেয়েছিলাম যে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারছিলাম বিমানটি নিচে নেমে যাচ্ছে। জানতাম, এটাই শেষ চেষ্টা। দরজাটি ঠিক সেখানেই ছিল।’
'I Was Injured But Couldn't Let Passengers Die': Captain Smit Machchhar To PM Narendra Modihttps://t.co/5uIOhfExiA pic.twitter.com/MUy76jgYMk
— NDTV (@ndtv) October 2, 2026
তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। ফলে অনবরত আঘাত করা সত্ত্বেও দরজা খুলে দেই ও অন্যান্যরা ককপিটে ঢুকে পড়েন’।
১৭ বছরের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মাচ্ছারের। এর মধ্যে ১১ বছর তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আহত অবস্থায় বিমানটি নিচে নেমে যাওয়ার মুহূর্তটি কীভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, মোদিকে তা জানান তিনি।
তিনি মোদিকে জানান, ঘটনার সেই সংকটময় সময়ে তিনি হিন্দু দেবতা হনুমানের মন্ত্র পাঠ করেছিলেন।
মাচ্ছার বলেন, ‘আমি জানি, ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন।’
পাইলটের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা তাকে আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, মাচ্ছারের পদক্ষেপ বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছে এবং একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এর আগে পাইলট ও যাত্রীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
নেতানিয়াহু আরও জানান, সহ-পাইলট একজন ওমানি নাগরিক এবং ইসরাইলগামী ফ্লাইটে কাজ করার অনুমতি তিনি কীভাবে পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেলে দেশটিকে ‘খুব কঠোরভাবে’ মোকাবিলা করা হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেলআবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর কো-পাইলট কাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি নাগরিক।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটির গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। এরপর এটি জর্ডান সীমান্তের কাছে অস্বাভাবিকভাবে ঘুরতে থাকে।
এ সময় বিমান থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত এবং পরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয়।
জরুরি সংকেত পাওয়ার পরপরই ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উচ্চ সতর্কতা জারি হয়। সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েল যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এক পর্যায়ে বিমানে উপস্থিত যাত্রী এবং অন্য বিমানকর্মীরা হামলাকারীকে বাধা দেন এবং ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন।
এক যাত্রী ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কানকে জানান, হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা যাত্রীদের দেওয়া হেডফোনের তার ব্যবহার করে তাকে বেঁধে ফেলেন। এ সময় বিমানের অন্য পাইলট ও ক্রুরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।অবশেষে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল শহর তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।
এদিকে অবতরণের পরই ওমানি নাগরিক কো-পাইলটকে আটক করে সৌদি কতৃপক্ষ। ঘটনার উদ্দেশ্য, পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




