শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘মোদি আমার বন্ধু হয়েও প্রশ্ন তোলেন ইউক্রেনের যুদ্ধে’! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম

শেয়ার করুন:

‘মোদি আমার বন্ধু হয়েও প্রশ্ন তোলেন ইউক্রেনের যুদ্ধে’! 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। 

এবার সেই ‘বন্ধু’ ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে মুখ খুললেন রুশ প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। 

মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সংঘাতের প্রশ্নে কখনও কোনও এক পক্ষকে সমর্থন জানায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা করে রাশিয়া, বুঝিয়ে দিলেন পুতিন। 

মস্কোয় ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদির প্রসঙ্গ টানেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সেই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের মধ্যে খুব ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর বিষয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’

পুতিনের কথায়, ‘সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। এ বিষয়ে তার চিন্তাভাবনাও বেশ ভাল। 

স্বাভাবিক ভাবেই তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান নেন এবং সংঘাত থামানোর চেষ্টা করেন। আমার মনে হয় সেটা সরাসরি বলে দেওয়াই আমার কর্তব্য। 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিমি দেশগুলি মস্কোর উপর বিবিধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সেই সময় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় ভারত। 

আমেরিকা তাতে বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ভারত তেল কেনার কারণেই রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে ইউক্রেনের সঙ্গে। পরোক্ষে যুদ্ধের রসদ জোগাচ্ছে নয়াদিল্লিই। 

এই অভিযোগ তুলে ভারতের ওপর চড়া হারে শুল্কও আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মোদি সরকার বার বার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। 

বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের কথা মাথায় রেখেই ভারত বাণিজ্য নীতি নির্ধারণ করে। আগামী দিনেও তা করবে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিক বার মোদির সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখা করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও। 

প্রতি বারই আলোচনা ও কূটনৈতিক বার্তালাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ডাক দিয়েছেন তিনি। কিছু দিন আগে ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন ভারতে এসেছিলেন। তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও যুদ্ধ থামানোর পক্ষে সওয়াল করেন মোদি।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর