মার্কিন ডলারের শক্তিশালি অবস্থান ও ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। এতে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের ধারায় রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর ৩টা ৩৮ মিনিটে (জিএমটি) স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন শ্রম বিভাগের সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর।
তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অথচ অর্থনীতিবিদেরা প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরি প্রত্যাশা করেছিলেন।
আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাবও আগের ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে সংশোধন করে ১ লাখ ৩৩ হাজারে নামানো হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাবও সংশোধিত হয়ে দেখা গেছে, ওই মাসে বরং ১০ হাজার চাকরি কমেছিল।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে চাকরি সৃষ্টির গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগস্টের ৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.২ শতাংশে উঠেছে। শ্রমশক্তিতে নতুন করে প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ যুক্ত হওয়ায় এই হার বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুর্বল চাকরির এই তথ্য প্রকাশের পরই বাজারে ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন হিসাব শুরু হয়েছে। সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপও কিছুটা হালকা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ফেডের ২৭–২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা চাকরির রিপোর্টের পর প্রায় ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সপ্তাহের শুরুতে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাধারণত বন্ডের ফলন বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ সোনার তুলনামূলক আকর্ষণ কমে যায়।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান বলেন, ‘ফেড এখনো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে শ্রমবাজার কতটা দুর্বল হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই দুর্বলতাকে কতটা সহ্য করবে—স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে’।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুরও দাম কমেছে। এরমধ্যে স্পট রুপার দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬০ দশমিক ১৭ ডলার, প্লাটিনাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯২ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬৬ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




