শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবি বিক্ষোভ থেকে আটক ৭০০, ইন্টারনেট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগ দাবি বিক্ষোভ থেকে আটক ৭০০, ইন্টারনেট বন্ধ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ৭০০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ জনকে আটক করে পুলিশ। এসময় আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, অতিশী, সঞ্জয় সিং এবং সঞ্জীব ঝা-সহ দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয়। 

আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, আটককৃতদের মধ্যে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ব্যাঙ্গাত্মক ও তরুণ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ঘোষিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। 

যন্তর মন্তরের আশপাশে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ও জমায়েত ঠেকাতে ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই দিল্লি মেট্রোর ১১টি স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর দিয়ে মেট্রো ট্রেন চলাচল করলেও সেখানে যাত্রীদের ওঠানামার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। 

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সূত্র জানিয়েছে, এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো দেশটির বৃহৎ টেলিকম অপারেটরদের যন্তর মন্তর এবং এর দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা এলাকাগুলোতে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনস্থলে সিগন্যাল জ্যামারও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এত কিছুর পর যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন হাজারো শিক্ষার্থী ও আম আদমি পার্টির নেতাকর্মীরা।      

delhi

এর আগে গত সপ্তাহে সিজেপি ঘোষণা করেছিল, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। 

এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, ভারতের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময় ১৩ কোটির বেশি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনের পর।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।

সিজেপিসহ ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে কারা ভোট দিতে পারবেন এবং কারা পারবেন না—এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ছাড়াও এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা, আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করে যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া এবং এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবিও তুলেছে।

সূত্র: হিন্দুস্কান টাইমস, এনডিটিভি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর