শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

হত্যার দাবি ভারতের, সাবেক সেনা সদস্যকে ‘জীবিত’ হাজির করল পাকিস্তান 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

হত্যার দাবি ভারতের, সাবেক সেনা সদস্যকে ‘জীবিত’ হাজির করল পাকিস্তান 
পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী, সাবেক হাবিলদার মোহাম্মদ আসিফ।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক এক সদস্য নিহত হয়েছেন—ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম যে ব্যক্তিকে নিহত ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’ কমান্ডার হিসেবে শনাক্ত করেছে, তিনি আসলে জীবিত। প্রমাণ হিসেবে তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজিরও করেছে ইসলামাবাদ। 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টে ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতার— আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতীয় দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, ভারতীয় বাহিনী ও সংবাদমাধ্যম যে ‘মোহাম্মদ আসিফ’ বা ‘হাশিম মুসা’কে কাশ্মীরে অভিযানে নিহত বলে দাবি করেছে, সেই ব্যক্তি আসিফ নন।

এরপরই মোহাম্মদ আসিফ নামের সাবেক এক পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেন জেনারেল আহমেদ শরিফ।

সাংবাদিকদের সামনে আসিফ বলেন, ‘ভারতীয় মিডিয়ায় আমার বন্ধুরা দেখতে পায় আমাকে নাকি কাশ্মিরে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর বন্ধুরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন আমি তাদের আশ্বস্ত করে বলি, আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘পরে আমি ভারতীয় মিডিয়ায় দেখেছি আমার ছবি ও আমার ব্যক্তিগত মিলিটারি রেকর্ডগুলো দেখানো হচ্ছে। তারা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদর্শন করছে। ওই সময় ভারতীয় মিডিয়াগুলো দাবি করছিল আমি কাশ্মিরে নিহত হয়েছি। তবে আমি ওই সময় আমার বাড়িতে বসে আছি, আল্লাহর রহমতে আমি জীবিত আছি এবং আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।’

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনার কর্পস ২৯ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরের কোরাগ-ইয়ুশমার্গ এলাকায় একটি অভিযান চালানোর কথা জানায়। 

পরদিন ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করে, অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়বার এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তাকে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আরও বিস্তৃত দাবি সামনে আসে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ আসিফ ওরফে আসিফ ফৌজি— লস্কর-ই-তৈয়বার একটি চার সদস্যের দলের শেষ সদস্য ছিলেন, যারা জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ গোয়েন্দা তৎপরতার পর তাকে অভিযানে হত্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের সাবেক সেনাসদস্য মোহাম্মদ আসিফের পরিচয় মেলানো হয়েছে ভুলভাবে। 

আইএসপিআর জানায়, মোহাম্মদ আসিফ ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালে স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপে (এসএসজি) যোগ দেন। প্রায় ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানেই বসবাস করছেন বলে জানান।

আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ ঘটনাটিকে ভারতের সাজানো গল্প হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার ভিত্তিতে ভারত নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া কঠোর হতে পারে।

সূত্র: ডন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর