মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও শুল্ক কমাতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ এএম

শেয়ার করুন:

বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও শুল্ক কমাতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের কাছ থেকে আমদানি করা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা থেকে প্রসাধনসামগ্রী এবং চীনের খেলনা থেকে গৃহস্থালি সরঞ্জাম রয়েছে। তবে উভয় দেশের তালিকাতেই উল্লেখযোগ্য কিছু পণ্য বাদ পড়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের চলমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে শুল্ক কতটা কমানো হবে বা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড’-এর অধীনে উভয় দেশই ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যপণ্যের তালিকা সুপারিশ করেছে। এসব পণ্য সংবেদনশীল নয় এবং এগুলোর জন্য আরও অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের ফলে চীনে রফতানি করা মার্কিন পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য ‘বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে’।

পারস্পরিক শুল্ক কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোও ছিল এ বছরের দ্বিতীয়বারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, দুই দেশের প্রস্তাবিত পণ্যের তালিকায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের আমদানি তথ্যের ভিত্তিতে।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা দুটি তালিকার একটিতে দেখা যায়, চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, গম, জোয়ার, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও তেলবীজের খৈল।

তবে তালিকায় বীজ উৎপাদনের জন্য নয়-এমন সয়াবিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ এটি চীনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কৃষিপণ্য রফতানি। ২০২৫ সালে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

সয়াবিন বাদ পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, চীনের ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বহাল থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন কেনাকাটা রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

সংগঠনটি বলেছে, ‘শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে মার্কিন সয়াবিনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ত এবং চীনের বেসরকারি ক্রেতাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হতো।’

ঘোষণার পর হতাশার প্রতিফলন দেখা যায় শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিনের ফিউচার বাজারে। সোমবার সয়াবিনের ফিউচার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর পেছনে ঘোষণায় ব্যবসায়ীদের হতাশা এবং আগে গড়ে ওঠা ফিউচার ক্রয় অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্রসাধনসামগ্রী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেবে বলে চীনা তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য একটি তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা ভোগ্যপণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে কফি তৈরির মেশিন ও টোস্টারের মতো ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, টেবিলওয়্যার, কম্বল এবং বিছানার চাদর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে খেলনা, যার মধ্যে শিশুদের সাইকেলও রয়েছে। ২০২৪ সালে এসব পণ্যের আমদানি মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কের কারণে ২০২৫ সালে তা কমে ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় বলে মার্কিন সেনসাস ব্যুরোর তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় চীনা আতশবাজি, কৃত্রিম ফুল, বিভিন্ন উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শিশুদের গাড়ির আসনও রয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশ তাদের চলমান সমঝোতা মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমস্যাগুলো সমাধানের উপায় খুঁজে নিতে আরও সময় পাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এই মেয়াদ বৃদ্ধি দুই দেশের কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা এবং চলমান আলোচনার জন্য একটি ‘তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশ’ তৈরি করবে।

দুই দেশ সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করবে। পাশাপাশি নীতির স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানো এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর