শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিজেপি প্রার্থীর জন্ম ১৯৬৬ সালে, মাধ্যমিক পাস ১৯৬৫-তে! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

শেয়ার করুন:

বিজেপি প্রার্থীর জন্ম ১৯৬৬ সালে, মাধ্যমিক পাস ১৯৬৫-তে! 

ভারতের পশিচমবঙ্গের নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামা নিয়ে আপত্তি তুলে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা করেছিল কংগ্রেস, তার শুনানি শেষ হয়েছে।

রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে আদালত। হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত পিএস চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানিকে আগামী উপনির্বাচনের জন্য নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে বিজেপি। 

চন্দ্রনাথ বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের দু’দিনের মাথায় খুন হন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তার মা। কিন্তু তার নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। 

অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে হাসিরানি যে মাধ্যমিকের শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, তাতে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাসের কথা বলা আছে। 

অথচ প্রার্থী জানিয়েছেন, তার বয়স ৬০ বছরের বেশি। সেই হিসেবে ১৯৬৬ সাল নাগাদ তার জন্ম। কী ভাবে জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাস করে ফেললেন তিনি, কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। তা নিয়েই হাইকোর্টে মামলা হয়েছে।

মামলাকারীর বক্তব্য, হলফনামা অনুযায়ী চৌখালি গঙ্গাখালি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন হাসিরানি। হয় তিনি নিজের বয়স নিয়ে অসত্য বলছেন, অথবা মাধ্যমিকের এই শংসাপত্রটি জাল। দু’টি একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না। তার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জানিয়েছে কংগ্রেস।

সাধারণত কোনও প্রার্থী হলফনামা জমা দিলে তার তথ্য স্ক্রুটিনিতে দেখেন রিটার্নিং অফিসার। এ ক্ষেত্রে কমিশনের বক্তব্য, ওই স্ক্রুটিনির সময় কেউ আপত্তি তুললে তা বৈধ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার পর মামলাকারীর এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার আর এক্তিয়ার নেই। 

জনস্বার্থ মামলা হলে এই প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় যেহেতু কোনও আপত্তি আসেনি, তাই এখন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না। 

মাধ্যমিকের শংসাপত্র জাল কি-না, তা প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জোরালো কারণ হতে পারে না বলেও কমিশনের আইনজীবী দাবি করেছেন।

হাসিরানির আইনজীবী জয়দীপ কর জানান, যেসময় হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর কথা ছিল, সেই সময় তা করা হয়নি। এখন আদালত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। 

তা ছাড়া, এটি ইচ্ছাকৃত কোনও ভুল নয়। তাই হাসিরানিকে সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী। বিচারপতি রাও সব পক্ষের বক্তব্যই শুনেছেন। শুনানি শেষে রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হবে। ওই কেন্দ্র থেকে বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন শুভেন্দু। তিনি ভবানীপুর থেকেও জেতায় নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিয়েছেন। 

তাই সেখানে উপনির্বাচন করাতে হচ্ছে কমিশনকে। ৯ অক্টোবর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে।

ওই কেন্দ্রের মমতা তৃণমূলের প্রার্থী ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর