বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে রাখার সম্ভাবনা এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান মূল্যবান ধাতুটির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বেলা ১২টা ০৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৪ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমে আসে।
একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৫০ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক স্থির ছিল। তবে পরে মার্কিন ডলারের মূল্য দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়ে। সাধারণত ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের মতো ধাতুগুলো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা চাহিদা কমিয়ে দেয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের একটি সীমার মধ্যে ওঠানামা করছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ও বন্ডের ফলন, ডলারের গতিপথ এবং তেলের দামে ওঠানামা স্বর্ণের স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়ীদের প্রভাবিত করছে’।
আরও পড়ুন
ফেডের রিচমন্ড শাখার প্রেসিডেন্ট টম বারকিন মঙ্গলবার বলেছেন, সুদের হার বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা ব্যবসায়ীদের মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রত্যাশা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
গত সপ্তাহে ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও একটি সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে স্বর্ণের সঙ্গে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বুধবার স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়াও প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




