বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হঠাৎ ‘কোড ১০০’ জারি করল ইরান! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

হঠাৎ ‘কোড ১০০’ জারি করল ইরান! 

আচমকা ‘কোড ১০০’ জারি করল ইরান! কখন দেওয়া হয় এই সাঙ্কেতিক বার্তা? ভয়ঙ্কর কিছুর অপেক্ষায় কি পারস্যে?

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর হামলার পর পরই পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 

ভয়ঙ্কর কিছু ঘটার আশঙ্কায় তাদের নিরাপত্তাবাহিনীকে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ইরান। জারি করা হয়েছে এক বিশেষ প্রোটোকল।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের উত্তাপ ফের বাড়ছে। আকাশ জুড়ে ছড়াচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান ও আমেরিকার সংঘর্ষের পারদ চড়তে শুরু করতেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে তেহরান। 

পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সামরিক অভিযানের উত্তেজনা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছোতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে সর্বোচ্চ জাতীয় সামরিক সতর্কতা জারি করেছে ইরান। চূড়ান্ত প্রস্তুতি আগেই সেরে ফেলতে মরিয়া ইরান।

ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সেনাবাহিনীর অন্যতম শাখা আরতেশ, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। 

সারা দেশে ‘কোড ১০০’ নামের একটি প্রোটোকল জারি করেছে ইরান। সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আগে সব বাহিনীকে দ্রুত অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইরানকে শায়েস্তা করতে নতুন হামলার কথা ভাবছে আমেরিকা। নিজেদের অবস্থানের পরিবর্তন না করলে ইরানের পরিণতি ভয়াবহ হবে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এমনকি বাড়াবড়ি করলে পুরো দেশটিকেই উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের চোখরাঙানির সমুচিত জবাব দিতে কোমর বেঁধে লেগে পড়েছে ইরানি সেনারা।

irn

মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, খুব তাড়াতাড়ি বড়সড় কোনও ঘটনা ঘটতে পারে। তার ইঙ্গিত, অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক ভাবেও তিনি ইরানকে ধরাশায়ী করতে পারেন। পাল্টা জবাবে তেহরান জানিয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কোনও কিছু বিবেচনা না করেই তার জবাব দেওয়া হবে।

সপ্তাহান্তে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে একাধিক হামলার ঘটনার পর ইরানে হঠাৎ করে এই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর হামলার পর পরই পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় সংগঠনটি। হুথিরা সৌদির রাজধানীর আশপাশের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকারও করেছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্য দিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হুথিবাহিনীর হামলাকে প্রতিহত করা হয়েছে। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং পরিবহণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

irn2

এই ঘটনার পর পরই ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেই প্রতিবেদনে।

ইরানের সামরিক পরিভাষায় ‘কোড ১০০’ বলতে সাধারণত অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের সামরিক সতর্কতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতিকে বোঝানো হয়। 

এই নির্দেশ জারি করার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সম্ভাব্য সংঘাত বা সামরিক অভিযানের জন্য দ্রুত প্রস্তুত থাকতে বলা হয়ে থাকে।

এই ধরনের সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সেনাদের দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা, সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য হামলা হলে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি সেরে রাখার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এর মধ্যে অন্যতম হল শত্রুর সম্ভাব্য বিমানহামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডারকে রক্ষা করা। ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকে ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ বলা হয়। সেই ঘাঁটিগুলিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা এই ‘কোড ১০০’-এর প্রধান পদক্ষেপ।

আইআরজিসি মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে বিকল্প বা দ্বিতীয় পর্যায়ের অবস্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এর উদ্দেশ্য হল সম্ভাব্য হামলার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ইউনিটগুলির অবস্থান বার বার বদলে তাদের সুরক্ষিত রাখা।

রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া এস-৩০০-এর পাশাপাশি ইরানের নিজস্ব তৈরি খোরদাদ-১৫ ও বাভার-৩৭৩ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। 

ইরানের সীমান্ত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিকাঠামোগুলিতে এই ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রাখা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলিকে আরও দ্রুত এবং ঘন ঘন আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করার ‘হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্র্যাকিং মোড’ কাজে লাগানো হয়েছে।

ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় ‘মোজাইক ডিফেন্স’ নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, যুদ্ধের সময় কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যাতে পুরোপুরি অচল না হয়ে যায়।

শত্রুপক্ষের বৈদ্যুতিন যুদ্ধ, সাইবার হামলা বা নির্দিষ্ট সামরিক আঘাতে তেহরানের কেন্দ্রীয় কমান্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলে, বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা আইআরজিসি (ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস)-এর কমান্ডাররা নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। 

ir-2

অর্থাৎ, তাদের স্থানীয় পর্যায়ে স্বাধীন ভাবে সামরিক অভিযান, অসমমুখী কৌশল এবং পাল্টা হামলা চালানোর ক্ষমতা দেওয়া হবে।

সহজ কথায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও যাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ইউনিট নিজেদের মতো করে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে— ‘মোজাইক ডিফেন্স’-এর লক্ষ্য সেটিই।

নাতাঞ্জ, ফোরডো ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিকে নিরাপত্তার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে ফেলছে তেহরান। সম্ভাব্য হামলা বা নজরদারি ঠেকাতে এ সব এলাকার চারপাশে মাছি গলার মতো ফাঁক রাখতেও নারাজ ইরানি গোয়েন্দারা।

এর পাশাপাশি, জিপিএস সিগনাল স্তব্ধ করার ব্যবস্থা এবং আকাশপথে নজরদারি বা ড্রোনের গতিবিধি শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পারমাণবিক পরিকাঠামোগুলির উপর শত্রুপক্ষের নজরদারি বা হামলার সম্ভাবনা কমাতে বা এ়ড়াতে এই বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাত যে কোনও মুহূর্তে আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন নাগরিকদের পশ্চিম এশিয়া সফর ‘পুনর্বিবেচনা’ বা অবিলম্বে বাতিল করার বার্তা দেয় ওয়াশিংটন।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর