হরমুজ প্রণালির কাছে আবার আক্রান্ত জাহাজ। ‘ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর রিপোর্ট উল্লেখ করে জানিয়েছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হরমুজের পূর্ব দিকে একটি জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে। সেই জাহাজে থাকা নাবিক এবং সদস্যদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় ছিলেন।
জানা গিয়েছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার এমটি আল মারিয়াহ-তে হামলা চালানো হয়েছে। ওই জাহাজে ১৯ জন ছিলেন।
তবে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জাহাজের বিদ্যুৎ সচল ছিল। ইঞ্জিনেরও কোনও ক্ষতি হয়নি। জাহাজটিকে দ্রুত ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে সেটি খোর ফাকান অঞ্চলে রয়েছে। এই ড্রোন হামলার নেপথ্যে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কবে থামবে, তা নিয়ে চিন্তিত প্রায় গোটা বিশ্বই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার জলপথে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে।
কারণ, ওই জলপথ দিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে জ্বালানি এবং পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। সংঘাতের কারণে ওই সব জাহাজও আটকে পড়েছে।
আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে ইরান। তাদের স্পষ্ট দাবি, ওই জলপথে তাদের অধিকার কায়েম থাকবে।
সংঘাতের জেরে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ও বিমার অতিরিক্ত খরচ তৈরি হয়েছে, যা কার্যত ‘টোল’-এর মতোই চাপ তৈরি করছে।
এ-ও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ পার হতে গেলে হামলার শিকার হতে পারে।
এই হরমুজ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দড়ি টানাটানি চলছে। ইরানের দাবি, আমেরিকা তাদের শর্তগুলি মেনে নিলেই হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।
আমেরিকাও হরমুজ নিয়ে পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে ইরানের ওপর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মতে, হরমুজ নিয়ে ইরানের দাবি মানা সম্ভব নয়। ওই প্রণালির ওপর কখনওই ইরানের একচেটিয়া অধিকার থাকতে পারে না।
সংঘাতের আবহে বিগত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালিতে বেশ কয়েকটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। গত জুলাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আছড়ে পড়েছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।
হামলায় নিহত হন এক ভারতীয় নাবিকও। তার আগেও এমন কয়েকটি জাহাজে হামলা হয়েছে, যেখানে ভারতীয়েরা ছিলেন। এ নিয়ে জাতিসংঘে সরব হয়েছে নয়াদিল্লি।
-এমএমএস




