শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কী আছে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

কী আছে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও নুক। চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন কিংবা কিছু কৌশলগত বিনিয়োগের সুযোগ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দিচ্ছে না কিংবা ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বও পরিবর্তন করছে না। ডেনমার্কের সরকার বলছে, চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে।

চুক্তির ঘোষণা, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়নি এখনো

১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। একই দিন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকারও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে স্বাক্ষর করার প্রত্যাশা রয়েছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরের পর চুক্তিটি প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের ঘোষণার পরও চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক আইনি কার্যকারিতা পেতে আরও কয়েকটি ধাপ বাকি।

গ্রিনল্যান্ডে বাড়বে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

প্রস্তাবিত চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ীভাবে প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। এর ফলে বর্তমানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু করা হবে।

তবে ঠিক কোথায় নতুন ঘাঁটি হবে, কতসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে কিংবা অবকাঠামো নির্মাণে কত অর্থ ব্যয় হবে— এসব পরিকল্পনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া-চীনের সামরিক উপস্থিতি প্রতিহত করা

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো।

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় নন-ন্যাটো দেশগুলোর গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোকে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া কিছু সংবেদনশীল বা কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। নন-ন্যাটো দেশগুলোর এমন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিরাপত্তা ভূমিকা

চুক্তির সবচেয়ে বিস্তৃত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা।

ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের স্থায়ী সক্ষমতা থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে ধরে রাখবে এবং সেখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উপস্থিতি বা আধিপত্য ঠেকাবে।

তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং চুক্তির আইনি ভাষা এক বিষয় নয়। চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ লিখিত পাঠ এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ বলতে ঠিক কী ধরনের আইনি ক্ষমতা বোঝানো হয়েছে, তা চূড়ান্ত দলিল প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কেরই থাকবে

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সঙ্গে নতুন সমঝোতার বড় পার্থক্য এখানেই।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছার কথা একাধিকবার বলেছিলেন। কিন্তু নতুন চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেওয়ার কথা নেই।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে।

অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব ডেনমার্কের কাছেই থাকবে, কিন্তু নিরাপত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অনেক বেশি বিস্তৃত হবে— প্রকাশিত তথ্য থেকে আপাতত এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিত্র।

গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলেও বহাল থাকবে চুক্তি

চুক্তির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলেও এর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু বিধান বহাল থাকার কথা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীনতা অর্জন করলেও চুক্তিটি কার্যকর থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতার প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

ডেনমার্কের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের সেল্ফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্টে গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসম্পন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে বৈদেশিক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতি এখনো ডেনমার্কের দায়িত্বে রয়েছে।

পুরোনো ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুসরণ

নতুন চুক্তিটি শূন্য থেকে তৈরি হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ১৯৫১ সালের গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি।

১৯৫১ সালের ২৭ এপ্রিল কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা নিয়ে চুক্তি হয়। জাতিসংঘের চুক্তি-নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, ওই চুক্তিটি ন্যাটো কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে।

পরবর্তীতে এই কাঠামোতে বিভিন্ন সংশোধনী যুক্ত হয়েছে। ২০০৪ সালে আইগালিকু চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫১ সালের ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনা হয়।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বর্তমানে মূলত এই প্রতিরক্ষা-চুক্তি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়।

পিটুফিক স্পেস বেস আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস বেস, যা আগে থুলে এয়ার বেস নামে পরিচিত ছিল।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পিটুফিকই বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র অবশিষ্ট প্রতিরক্ষা এলাকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি ও পরবর্তী সংশোধনীগুলো এর ভিত্তি।

আর্কটিক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষার দিক থেকে এই ঘাঁটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন চুক্তির ফলে এই সামরিক উপস্থিতির পরিধি আরও বাড়তে পারে।

কেন গ্রিনল্যান্ড এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভৌগোলিক অবস্থানই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও প্রতিরক্ষায় এর অবস্থান কৌশলগত।

এ ছাড়া বরফ গলার ফলে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন সমুদ্রপথ ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির ২০২৬ সালের একটি গবেষণায়ও গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন সমুদ্রপথ এবং সম্পদ ও নিরাপত্তা-স্বার্থে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের ভূখণ্ড

বিশাল আয়তনের গ্রিনল্যান্ডে জনসংখ্যা খুবই কম। গ্রিনল্যান্ডের পরিসংখ্যান দফতরের হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সেখানে জনসংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৭৪০ জন।

গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব নির্বাচিত সংসদ ও সরকার রয়েছে এবং বহু অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা স্বায়ত্তশাসিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বৈদেশিক নীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির দায়িত্ব এখনো ডেনমার্কের হাতে।

ফলে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে শুধু ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের সম্পর্ক নয়, গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ও জনগণের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয় এখনো প্রকাশিত নয়

নতুন সমঝোতা নিয়ে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো— এর পূর্ণাঙ্গ আইনি পাঠ এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

প্রকাশিত তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার, নন-ন্যাটো দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা এবং কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো জানা গেছে। কিন্তু নতুন ঘাঁটির সংখ্যা, জমি ব্যবহারের নির্দিষ্ট শর্ত, অর্থনৈতিক সুবিধা, গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসনের অনুমোদনের ভূমিকা এবং মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের ওপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নির্দিষ্ট ক্ষমতা— এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

তাই ট্রাম্পের ঘোষণায় ব্যবহৃত স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের ভাষাকে চুক্তির চূড়ান্ত আইনি ক্ষমতার সমার্থক ধরে নেওয়া এখনই সঠিক হবে না।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জন্য এর অর্থ কী?

ডেনমার্কের দৃষ্টিতে চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি ন্যাটো ও ইউরোপের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

গ্রিনল্যান্ডের সরকারও চুক্তিকে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছে। তবে একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ সেল্ফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্টে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে।

এক নজরে চুক্তির মূল বিষয়

যুক্তরাষ্ট্র যা পাবে

  • গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রবেশাধিকার
  • সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ
  • আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার
  • গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় স্থায়ী ও বিস্তৃত ভূমিকা
  • কৌশলগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি প্রভাব
  • ডেনমার্ক যা বজায় রাখবে
  • গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব
  • রাজ্যের আঞ্চলিক অখণ্ডতা
  • বৈদেশিক ও প্রতিরক্ষা নীতিতে সাংবিধানিক ভূমিকা

গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে

  • আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে
  • নিজস্ব সরকার ও সংসদ বহাল থাকবে
  • নিরাপত্তা সহযোগিতায় গ্রিনল্যান্ডের ভূমিকা থাকবে
  • ভবিষ্যতে স্বাধীন হলেও চুক্তির কিছু নিরাপত্তা বিধান বহাল থাকার ব্যবস্থা থাকতে পারে
  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষেত্রে
  • নন-ন্যাটো দেশের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে বাধা
  • রাশিয়া ও চীনের সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোর ব্যবস্থা
  • কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগে বিধিনিষেধ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা নেওয়া। নতুন সমঝোতা সেই লক্ষ্যকে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকটাই এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এটি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তি নয়; বরং ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও নিরাপত্তা উপস্থিতি সম্প্রসারণের একটি কাঠামো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ও সংসদীয় অনুমোদনও বাকি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ঠিক কতটা বাড়বে, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের অনুমোদনের পরিধি কতটুকু থাকবে এবং ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলে চুক্তিটি কীভাবে প্রয়োগ হবে— এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যাবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর