চলতি সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, আন্দামান সাগরে একটি একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে, যা অনুকূল পরিবেশ পেলে শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডাউন টু আর্থ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তর থাইল্যান্ডের ওপর একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্ত শনাক্ত করে আইএমডি। এটি ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্নব’, নামটি রেখেছে বাংলাদেশ। এটি ২০২৬ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম ঘূর্ণিঝড় হবে। এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ‘দিতওয়াহ’ আঘাত হেনেছিল। ওই ঝড়ে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস (ইসিএমডব্লিউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ফোরকাস্টিং সিস্টেম (জিএফএস)-এর আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি দুর্বল ঘূর্ণাবর্ত গঠনের সম্ভাবনা দেখা গেছে।
তবে মডেলগুলোর পূর্বাভাসে নিয়মিত পরিবর্তনও হচ্ছে। ফলে এখনই এর চূড়ান্ত গতিপথ বা তীব্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ডাউন টু আর্থ জানিয়েছে, নিম্নচাপটি শক্তিশালী হলে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওডিশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারতের পূর্ব উপকূলই সম্ভাব্য প্রভাবের প্রধান এলাকা। তবে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার পর এর গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে আইএমডি-এর সামুদ্রিক আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনি-সোমবার (১৯-২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে বুলেটিনে কোনো ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়নি।
এমএইচআর




