শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘জোড়াফুল’ প্রতীক হাতছাড়া মমতার, নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘জোড়াফুল’ প্রতীক হাতছাড়া মমতার, নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলটির ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহ ও বিভক্তির কারণে দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারানোর ঝুঁকিতে ছিলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো- আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ আর ব্যবহার করতে পারবেন না মমতার নেতৃত্বাধীন শিবির।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। 

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘খাম’।

এর আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের (মমতা এবং ঋতব্রত) মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। উভয় পক্ষই নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথি ও যুক্তি পেশ করে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন জানায়, দলের মূল নেতা কে, প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি এবং দলের তহবিলের মালিকানা কার হাতে থাকবে— বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা উপনির্বাচনে কোনও পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক ও নাম ব্যবহার করতে পারবে না।

কমিশন আরও জানিয়েছে, স্থগিতকৃত দলের নামে ইতিমধ্যেই যে সমস্ত প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাদের নতুন দল ও প্রতীকের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে গ্রহণ করতে হবে।

উপনির্বাচনের এই নতুন বিন্যাসে যে সব আসনে প্রার্থীরা নতুন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন:

রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র: অরূপ রায় অনুমোদিত প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ লড়াই করবেন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ‘খাম’ প্রতীকে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদিত প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী লড়বেন ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে।

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র: ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (খাম)-এর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন এহতেশামুল হক এবং ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (ফুটবল খেলোয়াড়)-এর প্রার্থী হিসেবে লড়বেন সঞ্চিতা প্রধান।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন, তখন এই ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি তিনি নিজে হাতে এঁকেছিলেন। এরপর থেকে ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীকটি দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। 

এই প্রতীক নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলটি ২০০১ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে এবং ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির জেরে দলে বড় ধরনের বিদ্রোহ ও বিভক্তির পর সেই প্রতীকীও হাতছাড়া হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার হাত ছেড়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একে একে যোগ দিতে শুরু করেন দলের বহু হেভিওয়েট নেতা। এমনকি, দীর্ঘদিন ধরে যারা মমতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘনিষ্ঠ সাক্ষী ও ভরসাযোগ্য ছিলেন— সেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, মদন মিত্র ও অনুব্রত মণ্ডলের মতো শীর্ষ নেতারাও দলনেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেন।

সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর