একটি ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কর্মকর্তা (আইপিএস) ড. বুশরা বানুকে তার পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিতর্কের বাইরে নতুন করে সামনে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন, দীর্ঘ শিক্ষা, চাকরি, সংসার, মাতৃত্ব এবং একাধিকবার কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্যের গল্প।
উত্তরপ্রদেশের কানৌজে জন্ম বুশরা বানুর। পড়াশোনায় শুরু থেকেই ছিলেন মেধাবী। তিনি গণিতে স্নাতক ও এমবিএ করার পর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে (এএমইউ) ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি করেন এবং গবেষণার সময় জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপও অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতাও করেছেন।
বিয়ের পর তার জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হয় সৌদি আরবে। তার স্বামী আসমার হুসেন জাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করতেন। বুশরাও সেখানে শিক্ষকতা করেন।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদিতে তার মাসিক আয় ছিল প্রায় আড়াই লাখ রুপি। কিন্তু বিদেশে প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবন থাকা সত্ত্বেও তিনি ভারতে ফিরে এসে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর শুরু হয় তার ইউপিএসসি-যাত্রা। প্রথমবারের সাফল্যে ২০১৮ সালে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২৭৭ অর্জন করেন এবং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে সুযোগ পান। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। পরে আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন এবং দ্বিতীয়বার ২৩৪ র্যাঙ্ক অর্জন করে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) নির্বাচিত হন।
এই পথচলায় সংসার ও মাতৃত্বও ছিল বড় দায়িত্ব। দ্বিতীয় সন্তানের সময় গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়েও তিনি ইউপিএসসির সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন।
তার জীবনের এই অধ্যায়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ একই সময়ে তাকে সন্তান, পরিবার ও ক্যারারের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে তার বিভিন্ন শারীরিক অস্ত্রোপচারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বুশরা বানুর স্বামীও তার ক্যারিয়ার গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত, ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন বুশরা। ভিডিওটিতে তিনি তার প্রস্তুতির দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
বুশরা জানান, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং একাডেমি তাকে ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নিতে অনেক সাহায্য করেছিল।
ভিডিওতে পুলিশের পোশাক পরিহিতা বুশরা বানুর কথার মাঝে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ এবং ‘জাযাকাল্লাহ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়। আর এই নিয়েই বিতর্কের শুরু।
‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামের একটি ডানপন্থি সংগঠন বুশরা বানোর ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করে, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংগঠনটি বক্তব্য, ভারতের রাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অবশ্যই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। বুশরা বানুর ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা উচিত ছিল।
এদিকে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বুশরা বানুকে বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য প্রশাসন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বুশরা বানুকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আর তার জায়গায় দায়িত্বে এসেছেন পার্থ ঘোষ। তিনি এখন খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করবেন।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে বুশরা বানুর বদলির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আজতক, বেটার ইন্ডিয়া
এমএইচআর




