হরমুজ প্রণালি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকের ডাক দিয়েছে ইরান। তবে আগামী সোমবার ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাহরাইন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে না মানামা’।
বাহরাইনের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং আজ সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আলোচনায় ‘বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা যায় না’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য, মাশুল বা অনুমতিপত্র ছাড়াই সকল জাহাজের যাতায়াতের অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত থাকতে হবে’।
২০১৬ সালে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল বাহরাইন। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা জবাবে বাহারাইনের ইরানের হামলার জেরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।
এরআগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে আগামী সোমবার ওমানের সালালাহ শহরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বৈঠকে ইরান, ওমান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য তীরবর্তী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ‘এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উন্নততর বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করা’।
এদিকে বৈঠকটি হলেও সেখানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠকটি মূলত আলোচনার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালির বিষয়ে কোনো লিখিত বা স্বাক্ষরিত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে না তেহরান।
মূলত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। প্রণালিটি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও এর গুরুত্ব অনেক। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান এমন একটি ব্যবস্থা চায়, যার মাধ্যমে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের সুযোগ থাকবে। কিন্তু ওমান এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধ থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে হরমুজ নিয়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইয়েমেনের হুথিদের তৎপরতায় বাব আল-মান্দাব প্রণালিকেও ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও ইরাক থেকে ড্রোন হামলায় জেরে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে সৌদি আরব। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স
এমএইচআর




