শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ব্রিকসে যোগ দিতে চায় পাকিস্তান, বাধা ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রিকসে যোগ দিতে চায় পাকিস্তান, বাধা ভারত

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ‘ব্রিকসে’ যোগ দেওয়ার জন্য ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জোটটির পূর্ণ সদস্য হতে পারেনি ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে ভারতের আপত্তিকেই দেখানো হচ্ছে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বছর মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর জোটটি ‘ব্রিকস প্লাস’-এ পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে আরও ২৯টি দেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাকিস্তানও সেই আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগদানের আগ্রহের পেছনে অর্থনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। 

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ব্রিকসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নতুন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করাই ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারত্বও কিনেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নের পথ তৈরি করতে চায় পাকিস্তান।

২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগদানের আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। 

দেশটির তৎকালীন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ বলেছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি যে, ব্রিকস অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার প্রতি তার অঙ্গীকার অনুযায়ী পাকিস্তানের অনুরোধের বিষয়ে এগিয়ে যাবে।’

এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তান রাশিয়া ও চীনের সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা করেছে। দেশটির রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সদস্যদেশগুলোর সমর্থন আদায়ে যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে ভারত পাকিস্তানের সদস্যপদের বিরোধিতা করায় আবেদনটি এখনো এগোয়নি।

প্রসঙ্গত, ব্রিকসের সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ নতুন কোনো দেশকে পূর্ণ সদস্য করতে বিদ্যমান সদস্যদের সর্বসম্মতি প্রয়োজন। ফলে ভারতের আপত্তি পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পাকিস্তানের জন্য এই জোটে প্রবেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

তবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ইসলামাবাদের সেই প্রচেষ্টা কবে সফল হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: এনডিটিভি 


এমএইচআর

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর