শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী সোমবার ওমানের সালালাহ শহরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ইরান, ওমান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য তীরবর্তী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ‘এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উন্নততর বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করা’।

মূলত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কয়েক মাস ধরে তীব্র উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অস্থিরতা বাড়ায় বিশ্ববাজারেও জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুটের জন্য কতটা প্রস্তুত মধ্যপ্রাচ্য? 

হরমুজে মার্কিন নৌযানে আবারো আইআরজিসির হামলা

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের হুমকিও দিয়েছে।

তেহরান জানিয়েছে, তাদের ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। ফলে হরমুজ ইস্যুতে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

মাত্র ১৮ ঘণ্টার এক তীব্র সামরিক অভিযানের পর লোহিত সাগরের উপকূলের ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো দখল করে নিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে পুরো লোহিত সাগর উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। 

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা শহর থেকে সরকারি বাহিনী আগেই সরে যাওয়ায় দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হুথি যোদ্ধারা তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়েনি। দ্রুত অগ্রসর হয়ে তারা প্রথমে ধুবাব এবং পরে মুরাদ দখল করে নেয়। মুরাদ ছিল লোহিত সাগর উপকূলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শহর।

স্থল অভিযানের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও অভিযান চালায় হুথিদের নৌবাহিনী। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে প্রবেশ করে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর তাদের বাহিনী জুকার দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারি বা প্রতিপক্ষ বাহিনীর সংঘর্ষ এখনো চলছে। 

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে অস্থিরতার জেরে  অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। 

সূত্র: আরব নিউজ, আলজাজিরা

এমএইচআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর