শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

২০২৯ পর্যন্ত চলতে পারে ইরান যুদ্ধ, সতর্ক করলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

২০২৯ পর্যন্ত চলতে পারে ইরান যুদ্ধ, সতর্ক করলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টারা

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংশয়। মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে তেহরান প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে পারলে সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তার শীর্ষ উপদেষ্টারা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অভ্যন্তরীণ আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে। ফলে সাত মাস ধরে চলমান এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, এমনকি ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ ও নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির শোচনীয় অর্থনীতির যা অবশিষ্ট আছে, তা-ও পঙ্গু করে দিচ্ছেন। একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই জানেন তিনি কখন কী করবেন।’

এদিকে এই মূল্যায়ন ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে কারণ ইরান আর বেশিদিন মার্কিন চাপ সামলাতে পারবে না।’

ট্রাম্প আরও স্বীকার করেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে, কিন্তু সেই বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছের না বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইতোমধ্যে যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। গত ৬ মাস ধরে চলা এই সংঘাত সম্প্রতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৫টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার দাবির পর, ইরান পাল্টা জবাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল-ডিজেলের দামও বেড়েছে। 

একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, যা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার কৌশল থেকেও পিছিয়ে আসতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন এবং সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এই সংঘাতকে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী বা অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন  বিশ্লেষকরা। 

সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর