সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হুথি হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ২ দশমিক ০১ ডলার বা ২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়ায়। যদিও আগের সেশনের একপর্যায়ে ১০০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১ দশমিক ৪৯ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫২ ডলারে ওঠে।
তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিস্তার এবং সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় দেশটির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাজারে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা মূল্যকে আরও ওপরে ঠেলে দিতে পারে। আর তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ী হলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও আরও বাড়তে পারে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষক হামাদ হুসেইন বলেছেন, চলতি সপ্তাহে সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগর ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইতোমধ্যে গোল্ডম্যান স্যাকস, ব্যাংক অব আমেরিকা ও এইচএসবিসিসহ কয়েকটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান তেলের ভবিষ্যৎ দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায় কমেছে। মঙ্গলবার সেখানে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে ১০ দিনের গড় ছিল ১২টি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




