বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হরমুজে অত্যাধুনিক মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

হরমুজে অত্যাধুনিক মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে ইরান। এর মধ্য দিয়ে সামরিক অভিযানে কীভাবে পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, তার একটি বিরল চিত্র সামনে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জব্দ করা যানটি ডাইভ-এলডি মডেলের একটি বড় স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে।

প্রায় ১৯ ফুট বা ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই ডুবোযানটি সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তার ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনের মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন একটি ডুবোযান আটকে দিয়েছে। তাদের দাবি, যানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

তবে ইরানের এই দাবি নাকচ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, একটি পানির নিচের ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল।

পেন্টাগনের ওই মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য ড্রোনটি নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। তবে বিকল হওয়া ড্রোনটি ছিল পুরোনো মডেলের। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না এবং এতে গোপন কোনো সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। পেন্টাগনও তাদের বিবৃতিতে ইরানের দাবি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যান্ডুরিল।

সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চালকবিহীন নৌযান ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। নাবিকদের ঝুঁকিতে না ফেলে তুলনামূলক কম খরচে এসব কাজ পরিচালনাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি একটি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়ে টানা ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার মিটার বা ১৯ হাজার ৭০০ ফুট গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম।

মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ডাইভ-এলডি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর