অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করেই চার দফা পাল্টা পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
কনস্যুলেট বন্ধের পাশাপাশি গাজা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশন থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েল।
এছাড়াও ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরায়েলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন ১২ জন ব্রিটিশ এমপিকে ও কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিককে ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি ইসরায়েলে ব্রিটিশ দূতাবাসের মতো নয়; এটি ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড-সংক্রান্ত ব্রিটিশ কূটনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাজ্য জেরুজালেমের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইসরায়েলের অবস্থান স্বীকার করে না এবং ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে অবস্থিত।
এর আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ঘোষণা করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে বসতিগুলোর অর্থায়ন, নির্মাণ, অবকাঠামো, আবাসন ও বিজ্ঞাপন-সংশ্লিষ্ট কিছু সেবার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় লন্ডন।
যুক্তরাজ্য বলেছে, বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ও দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা পুরো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নয়। বরং অধিকৃত অঞ্চলে অবৈধ বসতি ও তার সম্প্রসারণকে লক্ষ্য করেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমারেখার মধ্যে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগের সঙ্গে ফ্রান্স ও কানাডাও বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনসহ মোট ১২টি দেশ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ বা এ ধরনের পদক্ষেপ সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




