বিশ্বের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী—দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ৬৪ শতাংশ বা ১৪ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (১১ লাখ মার্কিন ডলার বা ) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
সিঙ্গাপুর সরকারের স্বাধীন বেতন পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ ডলার হবে, যা প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৫ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা)।
দেশটির সরকার বলছে, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করা এবং সরকারি ব্যবস্থায় দক্ষ নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের বেতন প্রতিযোগিতামূলক হওয়া প্রয়োজন।
তবে বেতন বৃদ্ধির পুরো সুবিধা নিজের জন্য রাখছেন না প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা দাতব্য কাজে দান করবেন।
বিশ্বের শীর্ষ ১০ সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের বার্ষিক বেতন
নতুন করে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই ওং বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া বিশ্বনেতা। দ্বিতীয় অবস্থানের রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি। তিনি বছরে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ডলার (প্রায় ৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা) বেতন পান।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন- সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন। তিনি প্রতিবছর ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার (প্রায় ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা) বেতন পান।
অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত বার্ষিক বেতন ৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা)। এর পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যয় মেটাতে আরও ৫০ হাজার ডলারের বার্ষিক ভাতা রয়েছে।
অর্থাৎ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর নতুন বার্ষিক বেতন প্যাকেজ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল বেতনের প্রায় সাত গুণ। এমনকি ট্রাম্পের ৫০ হাজার ডলারের ব্যয়ভাতা যোগ করলেও দুই নেতার আয়ের ব্যবধান অনেক।
পঞ্চম অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৮১১ ডলার (প্রায় ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা) পান। আর প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৭ ডলার (প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা) বার্ষিক বেতন নিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে আছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস।
এর পরের অবস্থানে রয়েছেন অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার, যার বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪ ডলার (৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা)। ৮ম অবস্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন পান প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৬ ডলার (প্রায় ৪ কোটি টাকা)।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বছরে প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫২১ ডলার বেতন পান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এছাড়ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কানির বার্ষিক বেতন প্রায় ২ লাখ ৭৯ হাজার ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা)।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক বেতন কাঠামো অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বে ব্যতিক্রমী। দেশটি রাজনৈতিক নেতাদের বেতন নির্ধারণে শীর্ষ উপার্জনকারী নাগরিকদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড ব্যবহার করে। সরকারের যুক্তি, এর মাধ্যমে রাজনীতিতে দক্ষ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করা এবং দুর্নীতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তবে সমালোচকদের মতে, সাধারণ নাগরিকের আয়ের তুলনায় রাজনৈতিক নেতাদের এত বেশি বেতন সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্নও তৈরি করে।
২০১২ সালে জনসমালোচনার পর সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক নেতাদের বেতন প্রায় ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছিল। এরপর প্রায় ১৫ বছর বড় ধরনের বেতন সমন্বয় হয়নি। এবার সেই দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাঠামোতে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু
এমএইচআর




