সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

লন্ডনে দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস উঠছে নিলামে, মালিক কি মোজতবা খামেনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

লন্ডনে দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউসের মালিক মোজতবা খামেনি, উঠছে নিলামে

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের অভিজাত কেনসিংটন এলাকায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে কেনা দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে। তবে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো- এসব সম্পত্তির মালিকানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, লন্ডনের ৩এ প্যালেস গ্রিন ভবনে অবস্থিত পেন্টহাউস দুটির কাগজে-কলমে মালিক হলেন ইরানের প্রভাবশালী ব্যাংকার আলি আনসারি।  ২০১৪ ও ২০১৬ সালে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে এগুলো কিনেছিলেন তিনি। 

একটি পেন্টহাউস ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের পাঁচ বেডরুমের ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট। আনসারি ২০১৬ সালে এই পেন্টহাউসটি ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কিনেছিলেন। এতে রয়েছে কর্মীদের থাকার জায়গা এবং ব্যক্তিগত ছাদ। 

বর্তমানে পেন্টহাউসটি ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের কিছু কম দামে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৭০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি কম। 

একই ভবনের আরেকটি পেন্টহাউস ২০১৪ সালে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে কিনেছিলেন আনসারি। সেটিও সাত ও আটতলা জুড়ে বিস্তৃত এবং এতে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত ছাদ রয়েছে। তবে দ্বিতীয় সম্পত্তিটির প্রকাশ্য বিক্রয়মূল্য এখনো জানা যায়নি।

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সম্পত্তিগুলোর অবস্থান। এগুলো কেনসিংটন প্যালেসের কাছাকাছি এবং যুক্তরাজ্যে প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিনের সরকারি বাসভবনেরও নিকটে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবনটি ইসরায়েলি দূতাবাস থেকে ৫০ মিটারেরও কম দূরে। পেন্টহাউসগুলো থেকে দূতাবাসের পেছনের অংশ সরাসরি দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা কর্মকর্তা রজার ম্যাকমিলানের মতে, এমন অবস্থান থেকে দূতাবাসের কর্মী ও দর্শনার্থীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা ছবি তোলার সুযোগ তাত্ত্বিকভাবে থাকতে পারে। 

তবে এসব সম্পত্তি কখনো নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি দূতাবাসও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

এদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আনসারি মূলত একটি বিশাল ‘শেল কোম্পানি’ (নামসর্বস্ব কাগুজে কোম্পানি) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সম্পদ গড়ে তোলেন, যার চূড়ান্ত সুবিধাভোগী মোজতবা খামেনি, তার পরিবার এবং ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

গত জুলাইয়ে আনসারিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ‘মূল অর্থদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে আনসারি যুক্তরাজ্যে ব্যাংকের বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। এতে তার সম্পত্তিগুলো বর্তমানে ঋণখেলাপির দায়ে আদালতের নিয়োগকৃত তত্ত্বাবধায়কদের অধীনে চলে গেছে এবং ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে এগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে। 

এসব সম্পদ বিক্রির পর ঋণ ও সংশ্লিষ্ট খরচ মেটানোর পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকবে, আনসারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পর্যন্ত তা হিমায়িত থাকবে।

তবে আনসারির আইনজীবী খামেনি বা আইআরজিসির সঙ্গে তার আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন।

সূত্র: গালফ নিউজ

এমএইচআর

 

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর