কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
এই মামলায় কৃষ্ণনগর আদালতের অন্য নির্দেশগুলিও বাতিল করা হয়েছে। মামলাটি স্থানান্তরিত করা হয়েছে বিধাননগর এমপি-এমএলএ বিশেষ আদালতে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল মহুয়ার বিরুদ্ধে।
তা ছাড়া, নারীদের তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরানো নিয়ে তার কিছু মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়। তার প্রেক্ষিতে কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দা আদালতে মামলা করেছিলেন।
মহুয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায়। অভিযোগ, মহুয়া নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করেছেন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়েছেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন এবং ভয় দেখিয়েছেন।
এই মামলায় মহুয়াকে একাধিক বার সমন পাঠিয়েছিল কৃষ্ণনগর আদালত। কিন্তু এমপি হাজিরা দেননি। তার পরেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানায় আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফের এই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত কৃষ্ণনগর কোর্টের যাবতীয় নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।
মহুয়ার বিরুদ্ধে মামলা কৃষ্ণনগর আদালতের শোনার এক্তিয়ার আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর আইনজীবী অর্ক নাগ। তার বক্তব্য ছিল, মহুয়া এমপি। তাই তার বিরুদ্ধে মামলার শুনানি হওয়ার কথা এমপি-এমএলএ কোর্টে।
সোমবার উচ্চ আদালত সেই নির্দেশই দিয়েছে। কৃষ্ণনগর আদালত থেকে মামলাটি বিধাননগরের এমপি-এমএলএ কোর্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাই কোর্টের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তিতে মহুয়া।
কিছু দিন আগে নদিয়ার সার্কিট হাউসে থাকতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন মহুয়া। অভিযোগ, রাতে আচমকা তাকে সার্কিট হাউস ছেড়ে দিতে বলা হয়।
বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা সেই সময় বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। ওই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই এমপি। চিঠি দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেও।
বিষয়টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো জড়িত, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন মহুয়া।
-এমএমএস




