রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘জাতির কন্যা’ উপাধি পেলেন পাকিস্তানের সেই নার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

‘জাতির কন্যা’ উপাধি পেলেন পাকিস্তানের সেই নার্স

পাকিস্তানের স্টাফ নার্স রাজিয়া নুরিন ইসলামাবাদের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এর নার্সারি ওয়ার্ডের একটি ওষুধের আলমারির কাছে ছিলেন। 

গত ২৬ আগস্ট সকাল ৬টা ৩৮ মিনিট। তিনি তার তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুদের থেকে দুটি দরজা দূরে ছিলেন এবং সকালের ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন। খবর আল-জাজিরার।

আলমারির দরজা বন্ধ করার সময়, তিনি নার্সারির কাঁচের প্যানেলের মধ্য দিয়ে এমন একটি আলো দেখতে পেলেন যা সাধারণ কিছুর চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও লাল ছিল। ওটা কী ছিল তা বোঝার জন্য তিনি অপেক্ষা করলেন না।

ওয়ার্ডের অন্য প্রান্তে তার সহকর্মী সিস্টার নাসরিন সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে করতে ইতোমধ্যেই বাইরে ছুটে আসছিলেন।

আট সেকেন্ড পর তিনি একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তিনি ভেতরে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেননি। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের মধ্যে ঘরটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, এতটাই ঘন ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় যে নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো তার ভেতর দিয়ে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না।

আট দিন পর পিআইএমএস-এর হোস্টেল ওয়ার্ডেনের ঘরের পাশের একটি সাদামাটা অফিসে বসে নোরিন এই ঘটনার কথা স্মরণ করছিলেন। তার পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের শেলওয়ার কামিজ, এক কাঁধে ওড়না আলগাভাবে ঝোলানো।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়েছিল। সবকিছু ধোঁয়ায় পরিণত হয়েছিল।”

ওই নার্সারিতে পনেরোটি নবজাতক ছিল। চৌদ্দটি মারা যায়। নোরিন যে শিশুটিকে কোলে করে বের করে এনেছিলেন, সে-ই একমাত্র বেঁচে ছিল।

৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ নোরিনকে তার সাহসিকতার জন্য একটি পুরস্কার প্রদান করেন। অসামান্য সাহসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে ‘সিতারা ই খিদমত’ পুরস্কার এবং এক কোটি রুপি প্রদান করে ‘জাতির কন্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে জ্বলন্ত আগুন থেকে নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করায় সাহসী নার্স রাজিয়া নুরিনকে এই উপাধি দেওয়া হয়। 

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর