ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশটির নিরাপত্তার বিষয়টি তিনি নিজেই দেখভাল করবেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তার দাবি, ইসরায়েলকে ধ্বংস করার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাত এবং পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোও তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতো।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো করছে’। প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কানকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েলের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির দেখভাল করবেন।
প্রায় এক মাসের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা তীব্র হওয়ার সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করলেন। সপ্তাহান্তে ইরানের লারাক দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে ইরান।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং সেখানে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ড্রোন পাঠানো হলেও সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ভূপাতিত করছে। প্রণালিতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ‘খুবই শক্তিশালী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশে নতুন করে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি সমুদ্রপথে মাইন বসানোর সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছিল। যুক্তরাষ্ট্র এসব তৎপরতা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রণালিতে মাইন স্থাপনের জন্য একটি রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল। যুক্তরাষ্ট্র গত রাতে ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর হামলা’ চালিয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান সীমিত মাত্রায় পাল্টা জবাব দিয়েছে।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না—এমন অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় আবারও ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। একই সঙ্গে দেশটি আর কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি কেবল কথার প্রসঙ্গেই তুলেছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর পর ইরানের গণমাধ্যম কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার ও কোনারাকে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে।
পরে আইআরজিসি দাবি করে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবিতে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য ছিল।
নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।
/এএস




