মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

City Bank CityTouch

নেপালের সুড়ঙ্গে ড্রোন পাঠিয়েও খোঁজ মিলল না ৯৩ শ্রমিকের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নেপালের সুড়ঙ্গে ড্রোন পাঠিয়েও খোঁজ মিলল না ৯৩ শ্রমিকের!

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। হাজারো বাধা-বিঘ্ন কাটিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। প্রাণের সন্ধানের আশায় বিপর্যস্ত-দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিভিন্ন দল। 

তবে দিন যত গড়াচ্ছে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। বিভিন্ন সুড়ঙ্গের মধ্যে নিখোঁজদের অনুসন্ধান চলছে। তেমনই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কর্মরত শ্রমিকদের খোঁজে ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালিয়েও কারও সন্ধান মেলেনি!

যখন হঠাৎ বন্যা আসে তখন রাসুয়া জেলার রাসুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করছিলেন অন্তত ৯৩ জন শ্রমিক। বিপর্যয়ের পর থেকে তাদের কোনও খোঁজ নেই।

সুড়ঙ্গের মধ্যে কোথায় আটকে রয়েছেন শ্রমিকেরা, তার অনুসন্ধান চালাচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনী। উদ্ধারকাজে আনা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারদেরও। ভোটেকোশী নদীতে বানের কারণে বরফে ঢাকা ওই সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে হয়তো শ্রমিকেরা আটকে থাকতে পারেন, তেমন আশঙ্কা করেছিলেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা। 

কিন্তু সঠিক জায়গা কিছুতেই চিহ্নিত করতে পারছিলেন না কেউ। সেই কারণে সোমবার (৩১ আগস্ট) একটি ‘থার্মাল ড্রোন’ ওড়ানো হয় সুড়ঙ্গের মধ্যে। 

ড্রোনটি চলে যায় একে বারে সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তে। কিন্তু কোথাও কোনও প্রাণের হদিস মেলেনি! নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সচিবালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন দলটি অনুসন্ধান চালিয়ে ফিরে এসেছে।

ড্রোন থেকে পাওয়া ছবিতে যখন ওই সুড়ঙ্গে কোনও শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি, তখন সেখানে তল্লাশি অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন উঠছে, ওই ৯৩ জন শ্রমিক কি বেঁচে নেই? তাদের মৃত্যু হলেও মরদেহগুলি কোথায় গেল? বরফের নিচে চাপা পড়ে নেই তো? না কি শ্রমিকেরা সুড়ঙ্গ থেকে অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন? এখন পর্যন্ত এই সব প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই কারও কাছে।

নেপালে ত্রিশূলী নদীর ওপর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলা মিলিয়ে নদীতে মোট নয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। তার মধ্যে পাঁচটি এখনও নির্মীয়মাণ। 

আকস্মিক বন্যায় এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গমুখগুলি চাপা পড়ে যায় কাদামাটির স্তূপের নিচে। বিপর্যয়ের সময় সেই সব সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন অনেক শ্রমিক। 

তাদের কয়েক জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ বহু। আদৌ শ্রমিকেরা সুড়ঙ্গগুলির ভিতরে আটকে রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলিকে।

এদিকে, নেপাল ও চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের দেওয়া সর্বশেষ আপডেটের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বলেছে, তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮৭ জনে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে। 

৯৮৭টি মরদেহের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল। এতে করে দেশটিতে এখন নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে পৌঁছেছে। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ আছেন ৫৪৬ জন।

ফলে দুই দেশে মোট নিখোঁজ আছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনের উদ্ধার কাজ চলছে আজ। এখনো যেহেতু সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর